Holi Eye Care Tips

দোলে ‘রংবাজি’ করুক ছোটরা, শুধু চোখ বাঁচিয়ে, সে জন্য কী ভাবে সতর্ক হবেন জেনে নিন বাবা-মায়েরা

রং খেলুন। কিন্তু সাবধান। চোখে রং ঢুকলে ভাল মতো ভুগতে হয়। ছোটদেরও সাবধানে রাখুন। রাসায়নিক মেশানো রং শুধু নয়, আবির নিয়েও সন্দেহ আছে আজকাল। দোল উৎসবকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে হলে, নিজের ও কাছের মানুষদের সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৫
Useful eye care tips on Holi for children

চোখ বাঁচিয়ে রং খেলুক ছোটরা, উপায় জেনে রাখুন বাবা-মায়েরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বছরে একবারই তো দোল আসে। রঙের উৎসবে ছোটদের আনন্দই বেশি। দোলের অনেক আগে থেকেই পিচকারি, নানা রকম রং কেনার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তাই দোলের দিন ‘রংবাজি’ স্বাগত, তবে চোখ বাঁচিয়ে। আবির আর রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে দিতে গিয়ে চোখের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেটিই দেখার। দোলের রঙে থাকা রাসায়ানিকের প্রভাবে চোখের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই দোলের দিন বহু মানুষ লাল টকটকে চোখ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। কলকাতা ও শহরতলির চোখের হাসপাতাল আর ক্লিনিকে চোখের কষ্ট নিয়ে ভিড় উপচে পড়ে। অথচ একটু সতর্ক থাকলে এই বিপদ প্রতিরোধ করা যায় সহজেই। ছোটদের জন্য তাই অভিভাবকদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে আগে থেকে।

Advertisement

কর্নিয়া পুড়তে পারে রঙের জ্বালায়

দোকানে এখন যে সব রং পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই রাসায়নিকে ঠাসা। ভেষজ বলে যে রং হাতে ধরিয়ে দেন দোকানি, তা-ও কি খুব সুরক্ষিত? চিকচিকে দানাদার রঙে গিজগিজ করে রাসায়নিক। আর সে সব কোনও রকমে যদি চোখে সেঁধিয়ে যায়, তা হলেই বিপদ। যেমন, লাল রঙে থাকা মার্কারির যৌগ চোখে গেলে চোখ ফুলবে, ব্যথা হবে। সবুজ রঙে থাকা কপার সালফেটের প্রভাবে চোখে ভয়ানক সংক্রমণ হতে পারে। উজ্জ্বল হলুদ রঙে থাকা লেডের মতো ভারী ধাতু চোখের স্নায়ু নষ্ট করে দিতে পারে। নীল রঙে আছে প্রাশিয়ান ব্লু, যে কারণে চোখ কড়কড় করে। চক্ষুরোগ চিকিৎসক সৌমেন মণ্ডলের কথায়, “দোলের পরে চোখের বিভিন্ন অংশে কেমিক্যাল বার্নের ঘটনা ঘটে। জোরে ছোড়া বেলুন বা পিচকারি থেকে বেরোনো রং চোখে লাগলে, চোখের সংবেদনশীল অংশ ঝলসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভ্র ও ভারী ধাতু মিশ্রিত রং বা আবিরের কারণে কর্নিয়ার ‘এপিথেলিয়াল টিস্যু’ উঠে যেতে পারে। তখন চোখ জ্বালা করবে, লাল হয়ে যাবে, অনবরত জল পড়তে থাকবে। ছোটরা রং খেললে তাই বড়দের দেখতে হবে, কোনও ভাবেই যাতে রং চোখের ভিতরে ঢুকে যেতে না পারে।”

ছোটরা রং খেলার সময়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে অভিভাবকদের।

ছোটরা রং খেলার সময়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে অভিভাবকদের। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

আবির উড়ে এসে জুড়ে বসলেই বিপদ

উড়ে এসে জুড়ে বসা রং মোটেই নিরাপদ নয়। শুকনো আবিরের গুঁড়ো যতই নিরীহ মনে হোক, তাতেও বিপদের আশঙ্কা ষোলোআনা। বন্ধুদের চমক দিতে গিয়ে পিছন দিক থেকে দৌড়ে এসে মুখে রং মাখাতে গিয়ে চোখে আবির ঢুকে যায়। চোখ রগড়ে তা বার করার চেষ্টাও সহজাত প্রবৃত্তি। আর এতেই কর্নিয়ায় বড়সড় ক্ষত তৈরি হয়ে যায়। আবির মূলত ক্ষারধর্মী। অ্যালাকালাইনের প্রভাবে চোখের সংবেদনশীল অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘কর্নিয়াল অ্যাব্রেশন’, এমনটাই জানালেন চক্ষুরোগ চিকিৎসক মৃন্ময় দাস। তাঁর কথায়, ‘‘ভেষজ পাউডার দেওয়া আবির হোক অথবা চিরাচরিত অভ্র মিশ্রিত, দুটোই কর্নিয়া নষ্ট করে দিতে পারে। গুঁড়ো আবির চোখে ঢুকে থাকলে তাতে ক্ষতি বেশি হয়। এতে কর্নিয়ায় গভীর ক্ষত হতে পারে।’’

চোখে রং ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে কী করতে হবে?

চোখে রং ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে কী করতে হবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

‘ব্লান্ট ট্রমা’ থেকে সাবধান

দোলের দিন আরও এক রকম দুর্ভোগ ঘটে, যার নাম ‘ব্লান্ট ট্রমা’। উডুক্কু রং ভরা বেলুন এর জন্য দায়ী। বারান্দা বা ছাদ থেকে ঠিক নিশানা করে বেলুন ছোড়া হল, আর সেই উড়ুক্কু বেলুন তীব্র গতিতে এসে মুখের উপর ফেটে গেল, এমন তো হামেশাই হয়। বিপদ এখানেই। চিকিৎসক মৃন্ময় জানালেন, রঙিন বেলুন সজোরে ফেটে চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন উদাহরণ বহু। দোলের দিনে এমন বিপদই বেশি ঘটে। ছোটরা বিশেষ করে বেলুন ছুড়ে একে উপরকে রাঙিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে মজা হলেও, দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যখন তখন। রাসায়ানিকের ক্ষতিকর দিক ছাড়াও জোর আঘাতে চোখের পাতা থেকে শুরু করে কর্নিয়া, এমনকি রেটিনারও সমস্যা হতে পারে। তাই ছোটরা যাতে রঙিন বেলুন না ছোড়ে, সে দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে বড়দেরই।

প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু জেনে রাখুন

চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস বা চশমা পরে দোল খেলতে বেরোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। ছোটদের জন্যও কিনে দিন সুদৃশ বড় ফ্রেমের সানগ্লাস। এতে হঠাৎ করে চোখে রং ঢুকে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

কৃত্রিম রাসায়ানিক রঙের পরিবর্তে নানা রকম ফুলের পাপড়ি বা রান্নার হলুদ দিয়ে রং তৈরি করে দিন ছোটদের। চোখও বাঁচবে, আবার দোলের দিন রঙের ভয়ে লুকিয়ে বসে থাকতেও হবে না।

চিকিৎসক সৌমেনের পরামর্শ, ছোটদের বোঝাতে হবে কেউ যদি পিছন থেকে মাথায় বা মুখে রং মাখায় বা তার দিকে রং ছুড়ে দেয়, তৎক্ষণাৎ চোখ বন্ধ করে নিতে হবে। চোখ খোলার আগে ভাল করে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে নিতে হবে।

চোখে রং বা গুঁড়ো আবির ঢুকলে কখনওই চোখ রগড়ানো চলবে না। চোখ চুলকালে বা কড়কড় করতে শুরু করলে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিতে হবে। এই জল কিন্তু পরিশ্রুত হওয়া চাই।

অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ রয়েছে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকে দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিজেরাই ব্যবহার করেন, এতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে স্টেরয়েড যুক্ত কখনওই নয়।

রং খেলার পরে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা ভাল। রং খেলার আগে মাথার চুলে ভাল করে নারকেল তেল মেখে নিলে ক্ষতিকর রঙের প্রভাব থেকে এক দিকে যেমন চোখ বাঁচবে, তেমনই স্নানের সময়ে চোখে রং ঢোকার ভয়ও খানিকটা কমবে।

আবিরে চোখ ভীষণ ভাবে শুকিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বারে বারে চোখে জল দেওয়া প্রয়োজন। চোখে জলে গোলা রং ঢুকে গেলেও বারে বারে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধীরে ধীরে জলের ঝাপটা দিতে হবে মুখে ও চোখে। জল দিয়ে ধোয়ার পরে এবং আই ড্রপ দিয়েও চোখে রং আটকে থাকলে বা ব্যথা না কমলে, চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

রং লাগার পরে নয়, আগে থেকেই সাবধান হতে হবে অভিভাবকদের। ছোটদের সামলানোর দায়িত্ব বড়দের। ছোটদের একা রং না খেলতে পাঠানোই ভাল। বড়রা সঙ্গে থাকবেন। আর রং ভরা বেলুন কোনও ভাবেই ছোটদের হাতে দেবেন না।

Advertisement
আরও পড়ুন