সাইকেল চালানো বনাম হাঁটায় কে জিতবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
হাঁটা, দৌড়োনো, না কি সাইকেল চালানো? ব্যায়াম হিসেবে কোনটি বেশি কার্যকর, রাস্তায় চলার জন্যই বা কোনটি উপযোগী, এই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু উত্তরের ক্ষেত্রে নানা জনের নানা মত। কায়িক পরিশ্রমের নিরিখে কোনটি জিতবে, পথ চলার জন্যই বা কোনটিকে বেছে নেবেন, তা জানতে হলে বিষয়গুলি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা যেতে পারে।
সাইকেল চালানোর সময়ে শরীরের নড়াচড়া একেবারেই আলাদা হয়। হাঁটা বা দৌড়ের ক্ষেত্রে সেই ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাঁটা বা দৌড়ের সময়ে প্রতিটি পদক্ষেপে শরীরকে সামান্য থামতে এবং আবার এগোতে হয়। এই ‘থামা-চলা’র প্রক্রিয়ায় অনেক শক্তি খরচ হয়। প্রতি বার পা মাটিতে পড়ার সময়ে একটা ছোট ধাক্কা লাগে, যা শক্তিকে শব্দ ও তাপে পরিণত করে দেয়।
ব্যায়াম হিসেবে সাইকেল চালানো কতটা উপকারী? ছবি: সংগৃহীত
অন্য দিকে, সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে এই ধাক্কার বিষয়টিই নেই। চাকার ঘূর্ণনের কারণে মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় মসৃণ ভাবে, ফলে শক্তি সরাসরি সামনে এগোনোর কাজেই লাগে। এখানে শরীরকে বার বার থামতে হয় না, তাই শক্তি খরচ অনেক কম হয়।
শুধু তা-ই নয়, হাঁটা বা দৌড়ের সময় পা পুরোটা দোলাতে হয়, যা শরীরের জন্যও বেশ পরিশ্রমসাপেক্ষ। কিন্তু সাইকেল চালানোর সময়ে পায়ের নড়াচড়া হয় ছোট বৃত্তের মধ্যে, ফলে কম শক্তিতে দীর্ঘ ক্ষণ চালানো সম্ভব হয়। এই কারণেই সাইকেল চালানোকে সবচেয়ে শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যায়ামগুলির একটি বলা হয়। শক্তি সঞ্চয়ের নিরিখে হাঁটার তুলনায় অন্তত চার গুণ এবং দৌড়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি কার্যকর হতে পারে সাইকেল চালানো।
তবে সব ক্ষেত্রে সাইক্লিং উপযুক্ত নয়। খুব খাড়া বা উঁচু পথে সাইকেল চালানো কঠিন হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে হেঁটে ওঠাই বুদ্ধিমানের। আবার নীচের দিকে নামার ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা যায়। সাইকেলে নামা সহজ, কিন্তু খাড়া ঢালু পথে হাঁটলে শরীরে বেশি ধাক্কা লাগে এবং অস্থিসন্ধিতে চাপ পড়ে।
শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সাইকেল সেরা। কোয়াড্স এবং গ্লুটস পেশিকে মজবুত করার জন্যও সাইকেল চালানো বেশি কার্যকর। অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যরক্ষার জন্যও এই বিকল্পটি ভাল। তা ছাড়া কম সময়ে ক্যালোরি পোড়াতে হলেও সাইকেল চালানোই কার্যকর। কিন্তু হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করার জন্য, শরীরের অন্যান্য পেশি মজবুত করার জন্য, দেহের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যও হাঁটার জুড়ি মেলা ভার।
সাইক্লিং আসলে এমন একটি ব্যায়াম, যেখানে শরীরের শক্তি সবচেয়ে দক্ষ ভাবে কাজে লাগে। তবে হাঁটা ও দৌড়েরও নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে শরীরের ওজন বহন করা, হাড় মজবুত করা বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চলাফেরার ক্ষেত্রে। শরীরের প্রয়োজন, পরিবেশ এবং অভ্যাস অনুযায়ী তিনটিকে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।