ছবি : সংগৃহীত।
হজমের সমস্যায় যে জোয়ান খান, তা ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে। অন্তত তেমনই বলছেন এক পুষ্টিবিদ।
দিল্লির ওই পুষ্টিবিদের নাম ডিম্পল জাংড়া। নানা শারীরিক সমস্যার ভেষজ সমাধান দিয়ে থাকেন তিনি। সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়োয় বলেছেন, ‘‘শরীরে যে ফ্যাট অনেক চেষ্টা করেও কমছে না, সেগুলি উষ্ণ জোয়ানের জল খেলে কমতে পারে।’’
কেন উষ্ণ জোয়ান জল কাজ করতে পারে?
ডিম্পল জানিয়েছেন, জোয়ান জলে কোনও ম্যাজিক নেই। তবে এর যে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধির গুণ রয়েছে, তার সাহায্যেই এটি মেদ ঝরাতে সাহায্য করতে পারে—
১. জোয়ানে থাকা থাইমল শরীরের হজমকারক এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে। ফলে বিপাক হার বাড়ে। আর বিপাকের হার বাড়লে, তা অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরিয়ে শক্তিতে পরিণত করে। ফলে বাড়তি মেদ ঝরে। যাঁরা খাবার নিয়ন্ত্রণ করেও মেদ ঝরাতে পারছেন না, তাঁরা খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানার পাশাপাশি উষ্ণ জোয়ান জল খেলে কাজ হবে দ্রুত। ওজন কমানোর প্রমাণ চোখের সামনে দেখতে পাবেন।
২. ওজন কমানোর জন্য অন্ত্র ঠিক রাখা সবচেয়ে আগে জরুরি। কারণ হজমের সমস্যা থাকলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। জোয়ানের জল অন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে। ফলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় গতি আসে।
৩. সকালে খালি পেটে উষ্ণ জোয়ান জল খেলে, তা শরীর থেকে ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। শরীরে জমা ওই দূষিত পদার্থ মেদ বৃদ্ধির কারণ। তাই শরীর টক্সিনমুক্ত হলে মেদও ঝরবে দ্রুত।
অন্য উপকারিতা
ওজন কমানো ছাড়াও নিয়মিত উষ্ণ জোয়ান জল খাওয়ার আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে।
১। এটি পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অ্যাসিডিক রিফ্লাক্স কমাতে সাহায্য করে।
২। শীতে ঠান্ডা লেগে বা বুকে কফ জমে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হলে, উষ্ণ জোয়ান জল ওষুধের মতো কাজ করে। এটি জমা কফ দূর করে ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।
৩। পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প হলে। হালকা গরম জোয়ান জল খাওয়া যেতে পারে। তাতে আরাম হবে।
৪। জোয়ানের অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ বৈশিষ্ট্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কিছুটা সাহায্য করে।
কীভাবে তৈরি করবেন?
এক চা-চামচ জোয়ান এক গ্লাস জলে রাতভর ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই জল ফুটিয়ে নিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় ছেঁকে পান করুন। অথবা এক গ্লাস জলে এক চা-চামচ জোয়ান দিয়ে ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। তার পরে তা ছেঁকে নিয়ে পান করুন। স্বাদ এবং গুণ বৃদ্ধির জন্য এতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
কতটা খেতে পারেন?
দিনে ১ গ্লাসের বেশি জোয়ান জল না খাওয়াই ভাল। কারণ বেশি খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়তে পারে। যা থেকে মুখ গহ্বরে ক্ষত তৈরি হতে পারে।
কারা খাবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এই পানীয় নিয়মিত ভাবে পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।