কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে আবেদন ইডির। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলা মুলতুবি করে দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অফিসের দ্বারস্থ হয় ইডি। তাদের আবেদন, এই মামলার বেঞ্চ বদল করে দ্রুত শুনানি করানো হোক! কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন না হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা জানান, এটা কোনও প্রশাসনিক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে বিচারপতি ঘোষ জুডিশিয়াল নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ইডির আবেদন মতো বেঞ্চ বদল করে শুনানি সম্ভব নয়। যদি বিচারপতি ঘোষের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত শুনানির আবেদন করত ইডি, তবে এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিবেচনা করতেন। কিন্তু ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তা করেনি।
আইপ্যাকের দফতরে তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। শুক্রবার দুপুরে হাই কোর্টের বিচারপতি ঘোষের এজলাসে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি এজলাসে এসেও শুনানি শুরু করতে পারেননি। ভিড়ের কারণে শুনানি মামলা না-শুনেই এজলাস ছাড়েন বিচারপতি। মামলা মুলতুবি হওয়ার অখুশি ইডি।
ইডি হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে বেঞ্চ বদল করে দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন জানায়। প্রথমে মৌখিক ভাবে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অফিসে জানানো হয়। হাই কোর্ট সূত্রে খবর, ইডির আবেদন রয়েছে এই মামলা বিচারপতি ঘোষের এজলাসে শুনানি সম্ভব না-হয় তবে অন্য বিচারপতির কাছে মামলা পাঠানো হোক। ইডিকে তাদের আবেদন লিখিত ভাবে জানানোর জন্য প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে বলা হয়। তারা জানায়, নিজেদের আবেদন ইডি লিখিত ভাবে জানালে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করা হবে। সেই মতো জরুরি ভিত্তিতে বেঞ্চ বসিয়ে শুনানির আবেদন লিখিত ভাবে জানায় ইডি। কিন্তু বিচারপতি ঘোষের জুডিশিয়াল নির্দেশ হওয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। আগামী ১৪ তারিখই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। অন্য দলটি গিয়েছিল লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দফতরে ইডির হানার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে যান। ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। তার পরেই তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। তাতে ইডি এবং আইপ্যাককে যুক্ত করা হয়। শুক্রবার এই দু’টি মামলা একসঙ্গে শোনার কথা ছিল বিচারপতি ঘোষের।
শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ এজলাসে আসেন বিচারপতি ঘোষ। আড়াইটে থেকে আইপ্যাক মামলা শোনার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু এই মামলা শুরুর আগে থেকেই এজলাসে ভিড় জমতে থাকে। ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস ছেড়ে চলে যেতে বলতে বাধ্য হন কোর্ট অফিসার। তিনি বলেন, আপনারা (ইন্টার্ন আইনজীবী) চলে যান। প্রচুর ভিড়ে শুনানির কাজ হচ্ছে না।’’ বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘‘পাঁচ মিনিট সময় দিলাম, মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। অত্যধিক ভিড় হয়ে গিয়েছে। না হলে আমাকে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।’’ তৃণমূলের করা মামলার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অনুরোধ করেন। কিন্তু কারা থাকবেন, কারা বেরোবেন, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গোলমাল বেধে যায়। বিস্তর ধাক্কাধাক্কি হয়। বিরক্ত হয়ে বিচারপতি উঠে চলে যান। মামলা আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন তিনি।