কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আইপ্যাক মামলার শুনানি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল তথা ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী দাবি করেছেন, তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক করে নেওয়া হয়েছে। ইডির পক্ষে তাঁর সওয়াল করার কথা ছিল। কিন্তু শুনানি শুরুর আগে বেলা দেড়টা নাগাদ তাঁর মোবাইল হ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি তিনি বিচারপতি ঘোষের এজলাসে জানান। পরে দিল্লির ইডি দফতর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও এ বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।
সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। ইডির তল্লাশির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান এবং ফাইল, নথিপত্র বার করে আনেন। পাল্টা তদন্তে বাধার অভিযোগ নিয়ে ইডিও হাই কোর্টে মামলা করে। শুক্রবার বেলা আড়াইটে থেকে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে আদালত চত্বরে ভিড় বাড়ছিল সকাল থেকেই। এজলাসে মামলা শুনতে এসেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। দুপুর ২টোর পরে এজলাসে পৌঁছোন বিচারপতি ঘোষ। কিন্তু ভিড়ের কারণে তিনি শুনানি শুরুই করতে পারেননি।
এজলাস খালি করার জন্য ইন্টার্ন আইনজীবীদের বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি ঘোষ। পাঁচ মিনিট সময়ও দিয়েছিলেন। কিন্তু কারা থাকবেন, কারা বেরোবেন, তা নিয়ে বচসা শুরু হয় আইনজীবীদের মধ্যে। ধাক্কাধাক্কিও হয় বিস্তর। এর পরেই বিরক্ত হয়ে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারপতি। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলা দু’টির শুনানি তিনি মুলতুবি করে দিয়েছেন।
তৃণমূলের মামলা এবং ইডির মামলা, দু’টিই পিছিয়ে দিয়েছে হাই কোর্ট। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি।
আইপ্যাক মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কথা লিখিত ভাবেও জানিয়ে দিলেন বিচারপতি ঘোষ।
আইপ্যাক মামলার শুনানি মুলতুবি করে দিলেন বিচারপতি ঘোষ। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের আইনজীবীরাও এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন।
হাই কোর্টে ভিড়ের কারণে আইপ্যাক মামলার শুনানি শুরু করা গেল না। এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিচারপতি ঘোষ। এর আগে ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কারা থাকবেন, কারা বেরোবেন, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গোলমাল বেধে যায়। বিস্তর ধাক্কাধাক্কি হয়। বিরক্ত হয়ে বিচারপতি উঠে চলে যান।
আইনজীবীদের উদ্দেশে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি অনুরোধ করছি ইন্টার্ন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। কেউ কিছু মনে করবেন না।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, ৫ মিনিট সময় দিলাম। মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। অত্যধিক ভিড় হয়ে গিয়েছে। না হলে আমাকে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।
কোর্ট অফিসার বলেন, ইন্টার্ন আইনজীবীরা এজলাস থেকে চলে যান। প্রচুর ভিড়ে শুনানির কাজ হচ্ছে না।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে এসে গিয়েছেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই শুনানি শুরু হবে। তার আগে এজলাসে প্রবল ভিড়।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে এলেন। আপাতত অন্য কয়েকটি মামলার শুনানি হবে। আড়াইটে নাগাদ আইপ্যাক মামলা শুনবেন তিনি।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এজলাসে এসেছেন। ইডির আইপ্যাক অভিযান সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুনতে চান তিনি। বলেন, ‘‘এর আগে আদালতে অনেক বার এসেছি। কিন্তু কোনও দিন মামলা শুনতে আসিনি। এখন আমার দল মামলা করেছে, তাই শুনতে এলাম।’’
আইপ্যাক দফতর ও লাউডন স্ট্রিটে তল্লাশি নিয়ে ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মমতার বিরুদ্ধে তদন্তের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে ইডি। তাতে যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকেও। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কয়লা পাচার মামলায় এই তল্লাশি অভিযান চলেছে। কলকাতার দু’টি জায়গায় তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে ইডি। নির্বাচন বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। তাতে ইডি এবং আইপ্যাককে যুক্ত করা হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে একসঙ্গে এই মামলাগুলির শুনানি হচ্ছে।
ইডির অভিযানের খবর পেয়ে রণং দেহি মূর্তি ধারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে সটান চলে যান প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেকের দফতরে। ইডির তল্লাশির মধ্যেই তিনি ফাইল, নথিপত্র, ল্যাপটপ বার করে আনেন। দাবি করেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তোপ দাগেন তিনি। আক্রমণ করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে।
তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে বৃহস্পতিবার তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্রে ওই অভিযান বলে দাবি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলেছে।