মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদ মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের। রবিবার সকালে প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখান রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যেরা। ছিলেন সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চেও হাতাখুন্তি বাজিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেন তাঁরা।
জনবিরোধী লক্ষ্য পূরণের জন্য সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করছে বিজেপি! রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এমনই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, শনিবার থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি লেখেন, ‘‘এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই ‘অসম্মানের’ জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’’ তার পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক... কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।’’ এখানেই থামেননি দ্রৌপদী। রাজ্যের আদিবাসী, অনগ্রসর অংশের মানুষজন সরকারি সুযোগসুবিধা পান কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমার দেখে মনে হচ্ছে না, সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পান। আদৌ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’’
দুপুর থেকে এ নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা শনিবারই কোনও প্রতিক্রিয়া দেন কি না তা নিয়ে। দেখা গেল ধর্নার শেষ পর্বে বক্তৃতা করতে উঠে ৫০ মিনিটের প্রায় সিংহভাগ সময়ই মুখ্যমন্ত্রী ব্যয় করলেন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে। দ্রৌপদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘আই অ্যাম সরি ম্যাডাম। আই হ্যাভ গ্রেট রিগার্ড্স ফর ইউ। বাট ইউ আর ট্র্যাপ্ড বাই দ্য বিজেপি’স পলিসি (মাননীয়া আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়েছেন)।’’
রাতে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মমতা লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্য সাধিত করতে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।’’ ঘটনাচক্রে, রবিবার ফের বিজেপির বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করার অভিযোগ তুললেন মমতা।
তৃতীয় দিনের ধর্নায় বসার আগে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, অম্বেডকরের সংবিধানকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের দলীয় ইস্তাহারকে স্থান দিতে চায় বিজেপি। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “‘এক দেশ, এক নেতা, একটিই দল’ নীতি মেনে বিজেপি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে এবং সাংবিধানিক পদকে জন-বিরোধী কাজে ব্যবহার করছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ওরা (বিজেপি) বাবাসাহেব অম্বেডকরের সংবিধানের পরিবর্তে নিজেদের দলীয় ইস্তাহারকে রাখতে চায়। আমরা এর বিরুদ্ধে। ধর্মতলায় আমাদের ধর্না তাদের বাংলা-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে জবাব।”
ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এসআইআরের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ধর্নায় বসেছেন তিনি। রবিবার তৃতীয় দিনে পড়ল তাঁর ধর্না।