ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
দাদুর হাত থেকে পাঁচ বছর বয়সি এক নাবালককে ছিনিয়ে নিয়ে পালাল জঙ্গলের রানি! রাতের অন্ধকারে নাবালককে শিকার করে হত্যা করল এক সিংহী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের আমরেলি জেলার একটি গ্রামে। ঘটনাটি চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে ত্রাস ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বন কর্মকর্তারা পরে ধরা পড়া সিংহগুলির একটির বমি থেকে নাবালকের দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। গত এক মাসের আমরেলি জেলায় এই নিয়ে তৃতীয় বার সিংহ আক্রমণের ঘটনাটি ঘটল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গির পর্বতমালা সংলগ্ন খানভা তালুকের চাতুরি গ্রামে মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। বনকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর বয়সি জিয়ান নামে এক নাবালক তার ঠাকুরদার সঙ্গে হাঁটছিল। এমন সময় হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটি সিংহী বেরিয়ে এসে আক্রমণ করে তাদের। বৃদ্ধ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিংহীটি তাঁর হাত থেকে শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে কাছের জঙ্গলে দৌড়ে পালাল। শিশুটির কান্নার শব্দ ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। হতভাগ্য শিশুর দাদু চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করেন।
আক্রমণের খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা লাঠি হাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এবং আশেপাশের জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। মৃত শিশুর কাকার মতে বন বিভাগের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোনোর আগেই গ্রামের দু’তিনজন যুবক সিংহীর হাত থেকে জিয়ানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা লাঠি দিয়ে আঘাত করে বন্যপ্রাণীটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে গ্রামবাসীরা গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জিয়ানের রক্তাক্ত দেহ খুঁজে পান।
বনকর্তা কপিল ভাটিয়া জানান, বন্যপ্রাণীগুলোকে ধরতে বনবিভাগটি অবিলম্বে একটি বড় অভিযান শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাস্থলের কাছে দুটি সিংহের সন্ধান পাওয়া যায় এবং বনকর্মীরা একটি সিংহীকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে খাঁচায় বন্দী করেন। ন’ঘণ্টার তল্লাশির পর বন বিভাগের দল আরও পাঁচটি সিংহকে ধরে খাঁচায় বন্দি করে। অভিযান চলাকালে বনকর্তারা একটি পুরুষ সিংহের বমির মধ্যে শিশুটির দেহাবশেষ খুঁজে পান। দেহাবশেষটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চাতুরি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ভয় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, এলাকায় সিংহের আক্রমণ ঘন ঘন ঘটছে। বনবিভাগ এই ঘটনাগুলি উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন চাতুরি গ্রামের বাসিন্দারা।