R N Ravi

পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘ফিট’ কি না সময় বলবে, তবে নব রাজ্যপাল রবি ৭৩এও ফিটনেসে পাল্লা দেন ৩৭কে!

৭৩ বছর বয়সি মানুষটি ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর বাহুর জোর নেহাত কম নয়। বরং এতটাই বেশি যে, ৩৭ এর তরুণও লজ্জা পেতে পারেন। এর অকাট্য প্রমাণ মিলেছিল মাস আটেক আগে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৬
ফিটনেসে তরুণদেরও পাল্লা দেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি?

ফিটনেসে তরুণদেরও পাল্লা দেন নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি? ছবি: সংগৃহীত।

ভোটতপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছেন আরএন রবি। আর তাঁর নাম ঘোষণা ইস্তক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। কী করবেন, কতটা করবেন, কেমন হবে তাঁর কূটনৈতিক কর্মপদ্ধতি, কতটা ‘গায়ের জোর’ দেখাবেন— এই সব প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে। এমনই মাহাত্ম্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদের, এমনই সব উদাহরণ তৈরি করে গিয়েছেন ওই পদের দুই প্রাক্তন অধিকারী। ভোটের বঙ্গে ভারপ্রাপ্ত নব্য রাজ্যপাল রবি তাঁর দুই পূর্বসূরি— জগদীপ ধনখড় এবং সিভি আনন্দ বোসের ব্যাটন বয়ে নিয়ে যেতে কতটা সক্ষম, তা জানতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। তবে ৭৩ বছর বয়সি মানুষটি ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর বাহুর জোর নেহাত কম নয়। বরং এতটাই বেশি যে, ৩৭ এর তরুণও লজ্জা পেতে পারেন। এর অকাট্য প্রমাণ মিলেছিল মাস আটেক আগে।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২১ জুন। বিশ্ব যোগ দিবসে। আরএন রবি তখন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। যোগ দিবসে বহু রাজনৈতিক নেতা পথে নেমে সাধারণের সঙ্গে যোগাসন এবং ব্যায়াম করেন। কারও কসরত দেখে শরীরচর্চার অভ্যাস স্পষ্ট হয়। কারও ক্ষেত্রে হয় না। নেতাদের অনভ্যাস যুক্তিযুক্ত ভেবে মেনেই নেন দর্শকেরা। তবে রবি যখন সাধারণের মধ্যে মাঠে নেমে শারীরিক কসরত দেখালেন, তখন দর্শকেরা ক্ষণিকের জন্য ভাবতে বাধ্য হলেন, চোখে ভুল দেখছেন না তো?

ট্র্যাক প্যান্ট আর টি-শার্ট পরে মাঠের মাঝখানে ডনবৈঠক করছিলেন রবি। যাকে পুশ-আপও বলা হয়। দু’টি হাত বুক বরাবর মাটিতে রেখে টান টান পা বুড়ো আঙুলের ভরে মাটিতে ঠেকিয়ে রেখে শরীরটাকে ক্রমাগত জমির সমান্তরালে উপর-নীচ করা। কাঁধ, বাইসেপস এবং ট্রাইসেপসের যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে, কোমরের জোর না থাকলে এ ব্যায়াম করা কষ্টকর। ত্রিশের যুবকেরাও নিয়মিত অভ্যাস না থাকলে ১০ বারেই হাঁপিয়ে উঠবেন। রবি সেখানে এক ভাবে এক ছন্দে পুশ আপ করলেন ৫১ বার। উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ইনি কি সত্যিই ৭৩ বছরের বৃদ্ধ, না কি ছদ্মবেশে ৩০ এর কোঠার তরুণ!

তখন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। ৫১ টি পুশ আপ করেই চললেন আর এন রবি।

তখন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। ৫১ টি পুশ আপ করেই চললেন আর এন রবি।

কাজটা মোটেই সহজ নয়! রাজনীতিবিদদের পুশ আপ করা প্রসঙ্গে এক বার বলেছিলেন পাঁচ বারের মিস্টার ইন্ডিয়া তুষার শীল। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল আনন্দবাজার ডট কমের তরফে, তখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সভায় গিয়ে ৩০টি পুশ আপ করে দেখিয়েছিলেন। ৩৭ বছরের অভিষেক (গত বছর ৪ নভেম্বরের হিসাবে) আর ৭৩ বছরের রবির পুশ আপ করার ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ব্যায়ামবীর বলেছিলেন, ‘‘পুশ আপ থেকে বোঝা যায়, কার বাহুর জোর কত। আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, যিনি পুশ আপ করতে পারছেন, তিনি নিশ্চয়ই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন।’’ কিন্তু ৭৩ বছর বয়সে টানা ৫১ বার পুশ আপ করতে কি যে কেউ পারেন? ব্যায়ামবীর বলেছিলেন, ‘‘আমারও তো ৭০ বছর বয়স, আমিও রোজ পুশ আপ করি।’’ তবে হ্যাঁ, তার জন্য তাঁরও নিয়মিত শরীরচর্চা লাগে, দরকার হয় রুটিনে বাঁধা জীবন। মানতে হয় বাঁধাধরা খাওয়াদাওয়ার নিয়মও। সেই অঙ্ক মানলে, বঙ্গের নব রাজ্যপালেরও নিয়মিত শরীরচর্চা আর রুটিনে বাঁধা খাওয়াদাওয়ার প্রমাণ মিলছে।

রবির খাওয়াদাওয়া

তিনি কী খেতে ভালবাসেন, তা প্রকাশ্যে কোনও দিনও বলেননি। তবে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে তাঁর মনোভাব এবং অপছন্দের কথা এক অনুষ্ঠানে এক বার স্পষ্ট করেই বলেছিলেন রবি। জানিয়েছিলেন, ফাস্টফুড সংস্কৃতির জন্যই অল্পবয়সিদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে আর আদি দেশজ সংস্কৃতিতে তৈরি খাবার খেলে এবং পূর্বজদের মতো জীবন যাপন করলে দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবন পাওয়া যাবে।

পুষ্টি সংক্রান্ত এক বইয়ের উদ্বোধনে ভাষণ দিচ্ছিলেন রবি। সেখানেই ভারতের আদি এবং ঐতিহ্যবাহী খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উদাহরণ টেনে রবি জানান, পূর্বজেরা যে ধরনের খাবার খেতেন, তা খেলে দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন পাওয়া সম্ভব। প্রমাণ হিসাবে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, সেখানে অনেকে ১০০ বছর পর্যন্তও বাঁচেন। কারণ, তাঁরা তাঁদের আদি সংস্কৃতি মেনে ঐতিহ্যবাহী খাবারদাবার খান এবং সেই মতো জীবনযাপনও করেন।

Advertisement
আরও পড়ুন