রন্ধনশিল্পী কুণাল কপূর। ছবি: সংগৃহীত।
যাঁর হাতের ছোঁয়ায় কাঁচা আনাজ হয়ে ওঠে সুস্বাদু খাবার, যাঁর শৈলীর গুণে একই উপকরণ নানা রূপ নেয়, তিনি নিজেকে ফিট ও সুস্থ রাখেন কী ভাবে? সেই উত্তরই দিলেন রন্ধনশিল্পী কুণাল কপূর। তাঁর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানলে বোঝা যায়, ফিট থাকার রহস্য আসলে খুব জটিল কিছু নয়। বরং নিয়মিত, ভারসাম্যপূর্ণ ঘরোয়া খাওয়াদাওয়াতেই লুকিয়ে আছে সুস্থতার চাবিকাঠি।
কুণাল তাঁর রোজের খানাপিনায় জাদুকাঠির প্রয়োগ ততটা করেন না। বরং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর পাতে সাদামাঠা পদই থাকে—
সকালে কী খান কুণাল? ছবি: সংগৃহীত
ভোর: দিন শুরু হয় খুব সাধারণ ভাবে। কোনও দামি ডিটক্স পানীয় নয়, চোখ খুলেই কুণাল আগে জল পান করেন। কখনও স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল, কখনও বা ঈষদুষ্ণ জল পান করেন সকাল সকাল। তাঁর মতে, শরীরকে দিনের শুরুতে হাইড্রেটেড রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি।
সকাল: প্রাতরাশে কখনও দোসা, কখনও ডিম, আবার কখনও ওট্স বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান কুণাল। দ্রুত ওজন কমানোর ডায়েটের বদলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। সে ভাবেই রোজ পাত সাজানো হয় তাঁর।
দুপুর: মধ্যাহ্নভোজনে চিরাচরিত ভারতীয় খাবারে ভরসা তাঁর। একেবারে ঘরোয়া, সাদামাঠা খাবার থাকে কুণালের পাতে— ডাল, সব্জি, রুটি, সঙ্গে কখনও গ্রিল করা প্রোটিন। এই ধরনের খাবার তাঁকে শক্তিও দেয়, আবার পেট ভারও করে না।
বিকেল: রান্নাঘরই তাঁর কর্মস্থল। ফলে অল্প খিদে পেলে যা খুশি খেয়ে নিতে পারেন। কিন্তু সেখানেই সংযমের পরীক্ষা দেন রন্ধনশিল্পী। কাজের ফাঁকে খিদে পেলে বাদাম, ফল, ডার্ক চকোলেট বা প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবারই খান কেবল।
রাত: সারা দিন হেঁশেলে সময় কাটানোর পর রাতে আর ভারী কিছু খেতে ইচ্ছে করে না কুণালের। তাই নৈশভোজে তাঁর পাতে থাকে ভীষণই হালকা কিছু খাবার।
রন্ধনশিল্পীর ডায়েটের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি এমন ধরনের প্রোটিন পছন্দ করেন না, যা খুব বেশি প্রক্রিয়া করা নয়। ডিম বা ভাল প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তাঁকে দীর্ঘ ক্ষণ তৃপ্ত রাখে। পাশাপাশি, রংবেরঙের মরসুমি সব্জি আর ভারতীয় মশলাকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। দারচিনি, গোলমরিচ, হলুদের মতো মশলাই কুণালের মতে রান্নাঘরের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যরক্ষক।