Mouth Breathing Problems

মুখে দুর্গন্ধ থেকে অতিরিক্ত ক্লান্তি! নিঃশ্বাস নেওয়ার ভুলে একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে

শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি এতই স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া যে, তা নিয়ে অধিকাংশ সময়ে কেউ ভাবেনই না। কিন্তু কী ভাবে শ্বাস নিচ্ছেন, সেটাই আপনার ঘুম, শক্তি আর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১০
সকালে উঠেই কেন ক্লান্ত লাগে?

সকালে উঠেই কেন ক্লান্ত লাগে? ছবি: সংগৃহীত।

সময় মতো শুতে গিয়েছেন, পর্যাপ্ত ঘুমও হয়েছে। অথচ সকালে উঠেই কেন ক্লান্ত লাগে? নেপথ্যে একাধিক স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। সেগুলির মধ্যে একটি কারণ লুকিয়ে থাকে একেবারে সাধারণ একটি অভ্যাসে। আর তা হল, মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া। চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে, তাঁরা নাকের বদলে মুখ দিয়ে বেশি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। আর সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে নানা সমস্যা।

Advertisement

শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি এতই স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া যে, তা নিয়ে অধিকাংশ সময়ে কেউ ভাবেনই না। কিন্তু কী ভাবে শ্বাস নিচ্ছেন, সেটাই আপনার ঘুম, শক্তি আর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাভাবিক ভাবে শরীর নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যই তৈরি। তার বদলে যদি মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেন কেউ, তার মানে বুঝতে হবে, কোনও সমস্যা রয়েছে এবং এর খারাপ প্রভাবও পড়তে পারে শরীরে। নাক বাতাসকে পরিষ্কার করে, আর্দ্র করে এবং শরীরের উপযোগী করে ফুসফুসে পাঠায়। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই প্রক্রিয়াগুলি বাদ পড়ে যায়।

মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস?

মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত

প্রথমত, এর ফলে অপরিশোধিত ও শুষ্ক বাতাস সরাসরি শরীরে ঢুকে যায়। তা থেকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের উপর। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে ঘুম বার বার ভেঙে যেতে পারে, গভীর ঘুম হয় না অনেক ক্ষেত্রে। ফলে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। এর ফলেই সকালে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব আর সারা দিন গায়ে জোর পাওয়া যায় না।

তৃতীয়ত, সকালে উঠে মুখ শুকনো লাগে, মুখে দুর্গন্ধ হয়, গলা খসখসে হয়ে যায়। কারণ, মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিলে লালা শুকিয়ে যায়, ফলে মুখগহ্বরের স্বাভাবিক সুরক্ষা কমে যায়।

চতুর্থত, দীর্ঘ দিন এই অভ্যাস চালিয়ে গেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা, এমনকি শ্বাসযন্ত্রের উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে তো মুখের গঠনেও পরিবর্তন আসার আশঙ্কা থাকে।

তা হলে এই অভ্যাস তৈরি হয় কেন? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ খুব সাধারণ, নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা বা ঘুমের সময়ে শ্বাসকষ্ট। অনেক সময়ে এগুলি ঠিক হয়ে গেলেও অভ্যাসটা থেকে যায়। ফলে কেবল রাতে ঘুমোনোর সময়েই নয়, দিনের বেলায় জাগ্রত অবস্থাতেও এ ভাবেই নিঃশ্বাস নিয়ে থাকেন অনেকে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, কয়েকটি সহজ অভ্যাস এই সমস্যার সুরাহা করতে পারে

১. নিয়মিত নাক দিয়ে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

২. ঘুমের সময়ে শোয়ার ভঙ্গি ঠিক করতে হবে

৩. নাক পরিষ্কার রাখা বা অ্যালার্জির চিকিৎসা করা দরকার

৪. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার

৫. শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত।

Advertisement
আরও পড়ুন