ওষুধের তাক ফাঁকা করুন মলাইকা অরোরার মতো ব্যায়াম করে! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জিম নয়, যোগাসন নয়, নয় প্রাণায়ম। কেবল ১০ মিনিট একটু অদ্ভত পদ্ধতিতে হাত-পা এবং শরীর নাড়াচাড়া করলেই আর দিনে-রাতে হাজারো রোগের ওষুধ খেতে হবে না। ওষুধ ছাড়াই থাকবেন সুস্থ। হজমের সমস্যা হবে না। বাড়বে না কোলেস্টেরল। এমনকি, ডায়াবিটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকবে! অন্তত তেমনই মনে করেন বলিউডের অভিনেত্রী মলাইকা আরোরা।
তিনি নিজে ওই শরীরচর্চা সম্প্রতি শুরু করেছেন। আর সমাজমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তার ভিডিয়ো ভাগও করে নিয়েছেন। মলাইকা জানিয়েছেন, ওই শরীরচর্চার এক প্রকার চাইনিজ় এক্সারসাইজ়। চিন দেশে ওই শরীরচর্চার লক্ষ্য দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন।
এই চাইনিজ় এক্সারসাইজ় আসলে কী?
মলাইকা যে চাইনিজ় এক্সারসাইজ়ের ভিডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন, সেটি আসলে চিনের প্রাচীন তাওইস্ট শরীরচর্চার অঙ্গ। আধুনিক শরীরচর্চার দুনিয়ায় তাওয়িস্ট এক্সারসাইজ়ের যে দু’টি দিক সবচেয়ে বেশি অভ্যাস করা হয়, তা হল ‘কিগং’ আর ‘তাই চি’। মলাইকা ওই দু’ধরনের ব্যায়ামের পদ্ধতি থেকেই কিছু কিছু মুদ্রা নিয়ে শরীরচর্চা করেছেন।
এ ধরনের ব্যায়ামের লক্ষ্য হল, শরীরকে খুব বেশি কষ্ট না দিয়ে শুধুমাত্র শরীরের নমনীয়তা এবং অভ্যন্তরীণ শক্তিবৃদ্ধি করা। শরীরকে প্রাণবন্ত রাখার জীবনীশক্তি, যাকে চিনারা ‘চি’ বলে্ন, শরীর জুড়ে তার প্রবাহ সচল রাখা। এই শরীরচর্চার মূলে যে তাও দর্শন, তার মূল কথাই হল— শরীর, প্রাণশক্তি এবং মনের সমন্বয় সাধন। এই মতবাদে বিশ্বাসীরা মনে করেন, মানুষের শরীরে বারোটি প্রধান ‘মেরিডিয়ান’ বা শক্তির পথ আছে। এ ধরনের শরীরচর্চা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, উদ্বেগ দূর করে, সেই সমস্ত শক্তির পথের বাধা দূর করবে। তাই ওই ধরনের শরীরচর্চা যত না সরাসরি ওজন কমায়, তার থেকে অনেক বেশি এনার্জি ক্লিনিং অর্থাৎ শরীরকে বিষমুক্তকরণে কাজে লাগে। যা দীর্ঘ মেয়াদে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নয়, বিভিন্ন জটিল রোগ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।
কী ভাবে করবেন?
১. শাওলিন মার্চিং: মলাইকা যেটি করেছেন, সেটি শাওলিন মার্চিং আর আধুনিক অ্যরোবিক্সের সমন্বয়। যেখানে শরীরের ভর দু’পায়ের বুড়ো আঙুলের উপর ব্যালান্স করার পাশাপাশি বাহুকে সোজা রেখে কানের পাশ থেকে শরীরের পাশে নামানো হচ্ছে। আর গোটাটা হচ্ছে শূন্যে আলগা বসে থাকার ভঙ্গিতে। আসলে বুড়ো আঙুলে ভর দিলে পায়ের ‘কাফ মাসল’ সঙ্কুচিত হয়, যা শরীরের রক্তকে পাম্প করে পাঠায় হার্টের দিকে। এতে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। হাত কানের পাশ থেকে দ্রুত নীচে নামানো এবং ওঠানোর প্রক্রিয়ায় বাহুমূলের নীচের লিম্ফ নোডগুলি উদ্দীপিত হয়। হালকা বসে থাকার ভঙ্গিতে ব্যায়াম করলে শরীরের কোর মাসল শক্ত হয়।
২. শেকিং কিগং: এর চিনা নাম 'জ়েন ডু'। হাত-পা এবং পুরো শরীর আলগা রেখে ছন্দোবদ্ধ ভাবে দ্রুত ঝাঁকাতে হয় এই ব্যায়ামে। এটি শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। যেহেতু শরীরে জমা টক্সিন এবং তা থেকে হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেসই অধিকাংশ জটিল রোগের কারণ, তাই এই ব্যায়াম শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। আর রোগ না হলে ওষুধের দরকার কী!
৩. স্পাইনাল টুইস্ট উইথ ফরোয়ার্ড বেন্ড: একে 'টার্নিং দ্য হেভেনলি হুইল'-ও বলেন অনেকে। তার কারণ অবশ্য এটি করার নিয়ম। বুকের কাছে হাত রেখে সামনে ঝুঁকে শরীরকে ডাইনে-বামে ঘোরাতে হয় এই ব্যায়ামে। মেরুদণ্ডের জড়তা কাটাতে সাহায্য করে এই ব্যায়াম। যারা দীর্ঘ ক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের পিঠ ও কাঁধের জড়তা কাটাতে এটি কার্যকরী। অস্থিসন্ধির ব্যথা, কোমরের ব্যথা কমাতেও কাজে লাগে। এ ছাড়া এতে পেটের ভিতরে থাকা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে একরকমের মাসাজ করা হয়। যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
৪. সুইংগিং আর্মস : দু’হাত শরীরের চারপাশে আলগা ভাবে দুলিয়ে পিঠের নীচে এবং পেটের পাশের অংশে হালকা আঘাত করা। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরের আকুপ্রেশার পয়েন্টকে উদ্দীপিত করে। এতে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। অভ্যন্তরীণ অঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছোয়। ফলে পুষ্টির অভাবে হওয়া বা শারীরিক নানা সমস্যা তৈরি হয় না। এটি ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে।
এ ছাড়া আর কী উপকার?
‘স্ট্রেস রিলিজ’ অর্থাৎ মানসিক চাপমুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকরী এই শরীরচর্চা। কারণ, এটি কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে। যেহেতু শরীরের বহু রোগের সূত্রপাত হয় মানসিক চাপ থেকেই, তাই এটি সার্বিক সুস্থতার জন্যই জরুরি।
কী কী খেয়াল রাখবেন?
১। যদি পিঠে তীব্র ব্যথা, মেরুদণ্ডে কোনও সমস্যা বা হার্টের সমস্যা থাকে, তবে এটি করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২। এগুলি জিমের মতো পেশি তৈরির ব্যায়াম নয়।
৩। প্রতিটি ব্যায়ামের সময় মুখ দিয়ে হালকা করে বাতাস ছাড়তে হয়।
৪। প্রতি দিন সকালে ১০ মিনিট এই সেটটি করলে তফাত বোঝা যাবে।