Secondary Hypertension

ভারতে কমবয়সিদের মধ্যে বাড়ছে ‘সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন’, ভুগছেন ২২ শতাংশের বেশি, কী এই রোগ?

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। তবে এর চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে ‘সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন’। দেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিরাই বেশি ভুগছেন এতে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭
What is secondary hypertension, why it is rising among Indians

সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন কী, কাদের হচ্ছে এই রোগ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রক্তচাপ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। সংখ্যাটা শুনলে আঁতকে উঠতে হবে। দেশের ২০ কোটিরও বেশি মানুষ ভুগছেন হাইপারটেনশনে। আবার অনেকে জানেনই না যে, তাঁদের রক্তচাপ ঊর্ধ্বমুখী। হাইপারটেনশন এমন এক নীরব ঘাতক যা নিঃশব্দেই বাসা বাঁধে শরীরে। তবে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র এক গবেষণা চমকে দিয়েছে। হু জানাচ্ছে, হাইপারটেনশন তো বটেই, ভারতে কমবয়সিদের মধ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। যা কোনও লক্ষণ ছাড়াই একে একে বিকল করে দেয় হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি, চোখ-সহ শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

Advertisement

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁদের বেশির ভাগেরই প্রাইমারি হাইপারটেনশন। গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যেই বেশি মাথাচাড়া দিয়েছে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। ক্রমেই এর সংখ্যা বাড়ছে। প্রাইমারি হাইপারটেনশন জীবনযাত্রার কারণে হয় ও কোনও কারণ ছাড়াই হতে পারে। তবে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হয় কোনও রোগের কারণে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ রোগের কারণ নয়, বরং অন্য কোনও রোগের লক্ষণ। দেখা গিয়েছে, সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন যাঁদের ধরা পড়ছে, তাঁদের বেশির ভাগেরই পরবর্তী সময়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক হচ্ছে অথবা লিভার বা কিডনির জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে।

কম বয়সিদের মধ্যে কেন বাড়ছে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন?

প্রাথমিক কারণ স্থূলত্ব। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) গবেষণা বলছে, ওজন বৃদ্ধির সঙ্গেই আরও নানা রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে। দেখা দিচ্ছে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা। ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দম বন্ধ হয়ে আসার মতো সমস্যা, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে অজান্তেই।

কিডনির ধমনী সঙ্কুচিত হয়ে রক্তচাপের হেরফের ঘটছে। এর কারণেও দেখা দিচ্ছে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন।

থাইরয়েডের সমস্যা বড় কারণ হয়ে উঠছে। হরমোনের গোলমাল হচ্ছে কমবয়স থেকেই, ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।

মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ, গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়ার কারণেও এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে কম বয়সিদের।

বেশি নুন দেওয়া জাঙ্ক খাবার, প্রক্রিয়জাত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

কী কী পরীক্ষায় ধরা পড়ে?

সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন শনাক্ত করতে সোডিয়াম-পটাশিয়াম ও হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করতে বলেন চিকিৎসকেরা।

কিডনির আলট্রাসাউন্ডও করা হয়। হার্টের কিছু পরীক্ষা, যেমন ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম করেও রোগের লক্ষণ বোঝার চেষ্টা করা হয়।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কম বয়স থেকেই যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ধরা পড়ে, তা হলে কেবল রক্তচাপ মাপা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আরও কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। কোন রোগের কারণে রক্তচাপের বৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলেই ঝুঁকি কমবে।

Advertisement
আরও পড়ুন