মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত গুরুতর হতে পারে, কী করণীয়? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
'বর্ডার ২' ছবির শুটিং চলাকালীন নিতম্বে গুরুতর চোট পান অভিনেতা বরুণ ধবন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর টেলবোনে আঘাত লেগেছে। টেলবোন হল মেরুদণ্ডের নীচের হাড়, যেখানে চিড় ধরলে যন্ত্রণা মারাত্মক হয়ে ওঠে। বরুণ নিজেই জানিয়েছিলেন, আঘাত লাগার পরে হাঁটাচলা করতে কষ্ট হত তাঁর। কোমরের নীচের অংশে ভয়াবহ যন্ত্রণাও হত। টেলবোন বা কক্সিসের হাড়ে আঘাত লাগলে সেখানকার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই রোগকে বলে কক্সিডাইনিয়া। এটির কারণে ব্যথা যেমন অসহ্য হয়ে ওঠে, তেমনই আঘাত সারতেও সময় লাগে।
কক্সিডাইনিয়া কতটা গুরুতর হতে পারে?
মেরুদণ্ডের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা ছোট ত্রিকোণাকার হাড়টিকে বলা হয় কক্সিক্স। এই হাড়ের প্রদাহ বা আঘাতজনিত ব্যথাই হল কক্সিডাইনিয়া। চিকিৎসক সুব্রত গড়াই জানাচ্ছেন, টেলবোনে চোট লাগলে তা সারতে দেরি হয়, যন্ত্রণাও খুব ভোগায়। এর কারণ হল, কক্সিসের হাড় ছোট হলেও তার চারপাশে প্রচুর স্নায়ু থাকে। ফলে হাড়ে চিড় ধরলে এই স্নায়ুগুলিতে প্রদাহ শুরু হয়, যা মেরুদণ্ড ও নিতম্বে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় ওই জায়গার পেশি ছিঁড়ে যায় বা হাড়ের স্থানচ্যুতি ঘটে। তখন অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হয়।
ওঠাবসার সময়ে এই টেলবোনই শরীরের ওজনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এই হাড়ে আঘাত থাকলে স্বাভাবিক ভাবে বসা বা শরীর নাড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আরও একটি সমস্যা দেখা দেয়। কক্সিক্সের সঙ্গে মলদ্বারের পেশিগুলি সংযুক্ত থাকে। তাই বড় ধরনের আঘাত লাগলে প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময়ে যন্ত্রণা হয়।
কী ধরনের সমস্যায় ভুগবেন রোগী?
টেলবোনে আঘাত লাগলে শক্ত জায়গায় বসলে বা দীর্ঘ সময় বসে থাকলে যন্ত্রণা হবে।
বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তে যন্ত্রণা শুরু হবে।
স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা করতে কষ্ট হবে। সিঁড়ি ভাঙা যাবে না।
সোজা হয়ে শুলে বা পাশ ফিরলে যন্ত্রণা হবে।
হাত-পা সময়বিশেষে অবশ বা অসাড় হয়ে যেতে পারে।
কেন সারতে দেরি হয়?
টেলবোনে আঘাত সারতে ৬ সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। হাত বা পা ভেঙে গেলে প্লাস্টার করা যায়, কিন্তু বসার সময় বা হাঁটাচলার সময় টেলবোনের ব্যবহার বন্ধ রাখা অসম্ভব। প্রতি বার বসার সময় হাড়টি আবার চাপের মুখে পড়ে, ফলে সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়।
শরীরের প্রান্তিক হাড় হওয়ার কারণে এখানে রক্ত সঞ্চালন অন্যান্য অংশের তুলনায় কিছুটা ধীর, ফলে কোষের পুনর্গঠনে দেরি হয়।
শরীরের এই জায়গা খুব সংবেদনশীল, তাই সেখানকার পেশিতে প্রদাহ শুরু হলে সহজে কমতে চায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে, ফিজ়িয়োথেরাপি ও ওষুধে ব্যথা ধীরে ধীরে নিরাময় হয়।