সানস্ট্রোক থেকে বাঁচতে শুধু জল নয়, কী কী মেশাবেন তাতে? ছবি: ফ্রিপিক।
গরমের দিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সানস্ট্রোক বা হিটস্ট্রোক। চড়া রোদে বেরোলেই জলশূন্যতার কারণে আচমকা জ্ঞান হারানো বা শ্বাসকষ্ট হয় অনেকের। মাথাঘোরা, শরীর হাঁসফাঁস করা চলতে থাকে। এর থেকে বাঁচতে শুধু ঢকঢক করে জল খেলেই হবে না, জলের সঙ্গে মেশাতে হবে আরও কিছু উপকরণ।
কেন হয় সানস্ট্রোক?
গরমের সময়ে ঘাম বেশি হয়। এতে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা বলেন, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে তখন শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছোতে পারে না। ফলে আচমকা জ্ঞান হারানো বা শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
আরও একটা কারণ আছে সানস্ট্রোকের। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে যে থার্মোস্ট্যাট বা তাপ নিয়ন্ত্রণকারী কুঠুরি রয়েছে, তার মাধ্যমেই সারা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে, হাইপোথ্যালামাসে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তখন হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোক হয়। বাইরের পরিবেশের তাপের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য রাখতে ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়ই জরুরি।
পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের মিশ্রণে তৈরি যৌগ হল ইলেক্ট্রোলাইট, যা জলে সহজেই গুলে যায়। বিভিন্ন খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে শরীর এই যৌগ সংগ্রহ করে। এই তিন খনিজ নিয়েই শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট পরিবার তৈরি হয়। এগুলির কোনও একটির কম বা বেশি হলে, তখন ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। পেশিশক্তি কমতে থাকে, স্নায়বিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই উপাদানগুলির অধিক অসামঞ্জস্য হলে জীবনহানিও ঘটতে পারে।
শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি করে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। যদি তারতম্য বেশি হয়, তখন ওআরএস খাওয়ানো হয়। তবে শুধু জল বা ওআরএসে এই ঘাটতি সব সময়ে পূরণ হয় না। এর জন্য এমন কিছু পানীয় জরুরি, যা একাধারে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটাবে, অন্য দিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
জলের সঙ্গে কী কী মিশিয়ে তৈরি করবেন ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়?
ডাবের জল-ফলের রসের ডিটক্স
দু’কাপ জল আর এক কাপ ডাবের জল মিশিয়ে নিন আগে। এর পর তাতে আধ কাপের মতো কমলালেবুর রস, এক চামচ পাতিলেবুর রস, এক চামচ মুসাম্বির রস, সৈন্ধব লবণ আধ চামচ, মধু ১ থেকে ২ চামচ মিশিয়ে দিন। উপর থেকে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন।
লেবু-মধুর ইলেকট্রোলাইট
খুবই সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে এই পানীয় বানানো যায়। জ্বর বা পেটখারাপের সমস্যা হলে এক গ্লাস জলে একটি গোটা পাতিলেবু ও মধু মিশিয়ে নিন, তাতে মেশান এক চিমটে ব্ল্যাক সল্ট। এই পানীয় দিনে দু’বার খেলে শরীরে জলশূন্যতা হবে না।
আনারস-পুদিনার ইলেক্ট্রোলাইট
২ থেকে ৩ কাপ জল নিতে হবে। এ বার কাচের জারে জল নিয়ে তাতে এক কাপ আনারসের টুকরো, ৫-৬টি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টা দুয়েক। তার পর সেই জল খেতে হবে। বাইরে বেরোনোর সময়ে বোতলে ভরে নিতে পারেন।
শসা-আদার ডিটক্স
অর্ধেকটা শসার রস করে নিন। এক গ্লাস জলে শসার রস মিশিয়ে তার সঙ্গে এক চামচ পাতিলেবুর রস, এক চামচ আদার রস ও এক চিমটে সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে তৈরি করুন পানীয়। এটি খেলে জলশূন্যতার সমস্যা থেকে বাঁচবেন।