Ghol Drinking Risk

ঘোল খেলেই বিপদ! ‘স্বাস্থ্যকর’ এই পানীয় কারও শরীরের জন্য শত্রু হয়ে উঠে পারে, সাবধান হবেন কারা

সব স্বাস্থ্যকর খাবারই সবার জন্য সমান উপকারী নয়। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘোল খাওয়াই উল্টে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৫
ঘোল খেলে কী কী হতে পারে?

ঘোল খেলে কী কী হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকেই সকাল-বিকেল ঘোল পান করেন। হালকা, ঠান্ডা, হজমে সহজ, প্রোবায়োটিকে ভর্তি, এমনই নানা কারণে ঘোল বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, সব স্বাস্থ্যকর খাবারই সবার জন্য সমান উপকারী নয়। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘোল খাওয়াই উল্টে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জেনে নিন, কারা এবং কেন ঘোল খাবেন না। বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক। যদিও ব্যক্তিগত ডায়েট নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত সকলেরই।

Advertisement
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘোল খাওয়াই উল্টে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘোল খাওয়াই উল্টে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ঘোল কাদের জন্য উপকারী নয়?

১. দুগ্ধজাত খাবারে সমস্যা: যাঁরা দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য ঘোল অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অনেকের শরীর দুধের উপাদান ঠিক ভাবে হজম করতে পারে না। তা সে দুধ হোক বা দই, পনির হোক বা ঘি। এই সব ক্ষেত্রে দই দিয়ে বানানো ঘোল খেলেও পেটফাঁপা, গ্যাস, পেটখারাপ বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই শরীর যদি এমন ইঙ্গিত দেয়, তা হলে ঘোল খাওয়ার আগে ভাবা দরকার।

২. যাঁদের কিডনির সমস্যা: যাঁদের কিডনির কোনও জটিলতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘোলে থাকা কিছু খনিজ পদার্থ শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই এই অবস্থায় ঘোল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। পুষ্টিবিদের কথায়, ‘‘বেশি দই দেওয়া হলে, প্রোটিনের পরিমাণ বেশি হবে। নানা রকম মশলাপাতি দিলে খনিজের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এই রকম একটি পানীয় কিডনির রোগীদের শরীরে গিয়ে খনিজের হেরফের করতে পারে। কোথাও পটাশিয়াম বেশি, কোথাও বা সোডিয়াম। ফলে ইলেকট্রোলাইটগুলির মাত্রা ঘেঁটে যেতে পারে। আর তাতে কিডনির রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।’’

৩. যাঁদের পেপটিক আলসার: অ্যাসিডিটি বা পেটে জ্বালা ধরার সমস্যা থাকলে, ঘোল সমস্যাজনক হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, ঘোল সব সময়ে পেট ঠান্ডা রাখে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা সত্যি নয়। কারও কারও শরীরে এটি উল্টে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের শরীর কী ভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনন্যা বলছেন, ‘‘পেপটিক আলসারের রোগীরা অবশ্যই দই খেতে পারেন। কিন্তু পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কারণ, ল্যাক্টিক অ্যাসিড বেশি থাকলে অন্ত্রের আস্তরণ ক্ষয় পেতে থাকে। তাই বুঝেশুনে খাওয়া উচিত। আবার খুব ঠান্ডা ও খুব গরম পানীয়ও খাওয়া উচিত নয় তাঁদের।’’

Advertisement
আরও পড়ুন