Fatty Liver Problem

৪৫-এর পরেই মহিলাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে কেন? কী ভাবে সতর্ক হতে হবে?

চল্লিশোর্ধ্ব অনেক মহিলাই তাঁদের রজোনিবৃত্তির পর্যায়ে এসে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অহরহ। এই পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায় বলে শরীরে অনেক রকম বদল আসে। মনমেজাজে পরিবর্তনের পাশাপাশি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে, লিভার তার মধ্যে অন্যতম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৮
Why Declining Hormones After 45 Accelerate Liver Fat Accumulation in Women

৪৫-এর পর কেন মহিলাদের লিভারে ফ্যাট জমতে শুরু করে? ছবি: সংগৃহীত।

রজোনিবৃত্তির পর্যায়টা সহজ নয়। এক দিকে যেমন শরীরে নানা পরিবর্তন আসে, অন্য দিকে তেমনই বদলে যায় মনমেজাজ। সংসার, কাজকর্ম, ছেলেমেয়ের অজস্র ঝড়ঝাপটা সামলে জীবনের মধ্যপর্বে এসে যখন একটু থিতু হওয়ার সময়, তখনই রজোনিবৃত্তি নতুন সঙ্কট ডেকে আনে। শরীর ও মনের নানা পরিবর্তনের সঙ্গে যুঝতে গিয়ে সংসার ও পেশা সামলানো যথেষ্টই কঠিন হয়ে পড়ে। চল্লিশোর্ধ্ব অনেক মহিলাই তাঁদের রজোনিবৃত্তির পর্যায়ে এসে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অহরহ। সঙ্কোচের কারণে তা মুখ ফুটে বলতেও পারছেন না অনেকে। ফলে লড়াইটা চলে নীরবেই। এই পর্যায়ে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায় বলে শরীরে অনেক রকম বদল আসে। মনমেজাজে পরিবর্তনের পাশাপাশি, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে, লিভার তার মধ্যে অন্যতম।

Advertisement

৪৫ পেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক মহিলার লিভারেই ফ্যাটের আধিক্য দেখা দিতে শুরু করে, এর নেপথ্যেও রয়েছে রজোনিবৃত্তি। পেরিমেনোপজ় বা মেনোপজ়ের সময় মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। শরীরের চর্বি কী ভাবে বণ্টিত ও বিপাক হবে, তা নির্ধারণে ইস্ট্রোজেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে। ইস্ট্রোজেনের অভাবে গোটা প্রক্রিয়াটাই ব্যাহত হয়। যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়, তখন চর্বি কোমর ও উরুর মতো শরীরের প্রান্তীয় অংশ থেকে সরে গিয়ে পেটের চারপাশের ভিসেরাল অংশ এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমা হয়। তাই লি‌ভারেও ফ্যাট জমতে শুরু করে। এ ছাড়া এই সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়, এর ফলেও লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।

লিভারে ফ্যাট জমা মানে যে সেই মহিলার ওজন অনেকখানি বেড়ে যাবে, এমন না-ও হতে পারে। অনেক সময়েই লিভারে ফ্যাট জমার উপসর্গগুলি দেখা যায় না। তাই ৪৫-এর পর বছরে এক বার হলেও ফ্যাটি লিভার আছে কি না, তা পরীক্ষা করানো জরুরি, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।


Advertisement
আরও পড়ুন