ছবি : সংগৃহীত।
বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি—ভিটামিন বি-১২ শুধু নিরামিষাশীদের জন্য নয়, বরং এটি সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরামিষাশীদের ঝুঁকির কারণটা একটু ভিন্ন।
এটি কি শুধু নিরামিষাশীরা খাবেন?
না। তবে নিরামিষাশীদের জন্য এটি বাড়তি চিন্তার বিষয়। কারণ, বি-১২ প্রাকৃতিকভাবে শুধুমাত্র প্রাণিজ খাবারে (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ খাবারে এটি থাকে না বললেই চলে।
তবে যারা আমিষ খান, তাদেরও বি-১২ এর অভাব হতে পারে। যদি—
১. তাদের পরিপাকতন্ত্র (গ্যাস্ট্রিক বা অন্ত্র) খাবার থেকে ভিটামিনটি শোষণ করতে না পারে।
২. বয়স ৫০-এর বেশি হলে। কারণ, বয়স বাড়লে পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা কমে যায়।
৩. দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডিটির ওষুধ খেলে
৪. ডায়াবেটিসের নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ যদি খান।
কেন নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সবার খাওয়া জরুরি?
শরীর ভিটামিন বি-১২ জমিয়ে রাখতে পারলেও তা খরচও হয় নিয়মিত।
১. ডিএনএ তৈরি: এটি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের জেনেটিক উপাদান বা ডিএনএ তৈরিতে সরাসরি কাজ করে। এটি ছাড়া কোষ বিভাজন ঠিকমতো হয় না।
২. শক্তি উৎপাদন: আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, তা ভেঙে শক্তিতে রূপান্তর করতে বি-১২ প্রয়োজন। এটি পর্যাপ্ত না থাকলে আপনি সারাদিন "ব্যাটারি লো" অনুভব করবেন।
৩. হার্টের সুরক্ষা: এটি রক্তে হোমোসিস্টিন নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এই মাত্রা বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. জন্মগত ত্রুটি রোধ: গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের বিকাশে বি-১২ অপরিহার্য।
কোন খাবারে পাওয়া যায়?
যদি আপনি নিয়মিত ডায়েটে ডিম, দুধ, দই, সামুদ্রিক মাছ, খান তবে সাপ্লিমেন্টের দরকার নেই।