কিডনির অসুখের লক্ষণ দেখা দিতে পারে চোখ-মুখেও। কী ভাবে বুঝবেন? ছবি: সংগৃহীত।
চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁরা অনেক সময় চোখ দেখেন, দেখেন জিভও। আসলে চোখ, জিভ দেখেই তাঁদের অভিজ্ঞ চোখে অনেক সময় অসুখের লক্ষণ ধরা পড়ে। কিডনি থেকে লিভার, পেটের স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার নানা উপসর্গ প্রকাশ পায়। চোখ-মুখে তা অনেক সময়েই ধরা দেয়।
যেমন চোখের চারপাশে ফোলা ভাব। ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করলেন, চোখের চারপাশ ফুলে গিয়েছে। কিন্তু দিন গড়াতে না গড়াতেই তা আবার স্বাভাবিক। ঘুম থেকে উঠলে মুখ-চোখ খানিক ফোলা দেখায়। তবে চোখের চারপাশ ফুলে থাকা, তা-ও টানা, মোটেই হেলাফেলার বিষয় নয়। গোয়া নিবাসী কিডনির চিকিৎসক, হার্দিক পটেল এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বার হতে শুরু করলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিডনি আসলে শরীরের ছাঁকনি। রক্তের অপ্রয়োজনীয় এবং শরীরের পক্ষে দূষিত পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়। কিন্তু কখনও যদি কিডনির কর্মক্ষমতা বিগড়ে যায়, তখন অ্যালবুমিনের মতো প্রোটিন বেরিয়ে আসতে পারে।
চিকিৎসকের কথায়, ‘‘প্রস্রাবের সমস্যাই শুধু কিডনির অসুখের ইঙ্গিতবাহী নয়, চোখ দেখেও তা ধরা যায়।’’ কিডনি অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ। তবে চট করে সব সময় কিডনির অসুখ ধরা পড়ে না। কারণ, কিডনি যথেষ্ট মাত্রায় বিকল না হলে সেই ভাবে উপসর্গগুলি প্রকাশ পায় না। সাধারণত প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা হলে, প্রস্রাবের গন্ধ অন্য রকম হলে বা ফেনাযুক্ত প্রস্রাব দেখলে লোকজন খানিক সতর্ক হন। তবে ফোলা চোখের লক্ষণও অবহেলা করা ঠিক নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয়, ‘পেরিঅরবিটাল পাফিনেস’। সাধারণত এই লক্ষণ ঘুম থেকে ওঠার পরেই দেখা যায়। দিনভর হাঁটাহাটিতে মাধ্যাকর্ষণের টানে সেখানে জমা তরল পায়ের নীচে চলে যায়।
কোন কোন কারণে চোখের চারপাশ ফুলতে পারে
শুধু কিডনির সমস্যা নয়, আরও বেশ কিছু কারণে চোখের চারপাশ ফুলে যেতে পারে। জল কম খেলে, কম ঘুম হলে, অতিরিক্ত নুন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলেও এমনটা হতে পারে। কিডনির সমস্যা বুঝতে গেলে আরও কয়েকটি দিক খেয়াল রাখা দরকার। প্রস্রাবের জ্বালা বা ফেনা, ক্লান্তি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া— এই ধরনের উপসর্গও একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কারও কিডনির সমস্যার ইতিহাস থাকলে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দীর্ঘ সময় ধরে চললে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।