Weight Loss Medicine

ইনসুলিন পেনের মতো দেখতে, দেশে ওজন কমানোর নতুন ওষুধ আনছে জ়াইডাস, কাজ দেবে ডায়াবিটিসেও

মার্চ মাসের মধ্যে দেশের বাজারে চলে আসতে পারে ওজন কমানোর ওষুধ সেমাগ্লুটাইড। ওষুধটি ইনসুলিন পেনের আকারে আসবে। সেটি ডায়াবিটিস রোগীদেরও কাজে আসবে বলে খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪০
Zydus has announced plans to launch its Semaglutide Injection in India

ওজন কমাবে, আবার ডায়াবিটিসেও কাজে আসবে, নতুন ওষুধ আসছে। ছবি: সংগৃহীত।

ওজনও কমবে, আবার ডায়াবিটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একই সঙ্গে দুই সমস্যার সমাধান করবে সেমাগ্লুটাইড। ওজন কমানোর ওষুধ ওজ়েম্পিক, মাউনজেরোকে মাত দিতে দেশের বাজারে নতুন ওষুধ আনতে চলেছে অহমদাবাদের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা জ়াইডাস লাইফসায়েন্সেস। সেমাগ্লুটাইড ট্যাবলেটের আকারে নয়, ইঞ্জেকশন হিসেবে আসবে। দেখতে হবে ইনসুলিন পেনের মতো। এর ডোজ় নিলে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে খবর।

Advertisement

ওজ়েম্পিকের মতোই সেমাগ্লুটাইডও ‘জিএলপি-১’ হরমোনের উপর প্রভাব খাটাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। এই হরমোনটি প্রাকৃতিক ভাবেই শরীরে তৈরি হয়। অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ হল অনেকগুলি কোষের সমষ্টি। একে বলা হয় ‘আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যানস’। এত দিন জানা ছিল, আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন নামে এক প্রকার হরমোন ক্ষরিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কিন্তু এখন জানা গিয়েছে, আলফা কোষ যে শুধু গ্লুকাগন নিঃসরণ করে, তা নয়। এর আরও কাজ আছে। এই কোষ থেকে জিএলপি-১ হরমোনও বার হয়, যা আদতে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজ়েম্পিক, মাউনজেরোর মতো ওষুধ এই হরমোনটিকেই সক্রিয় করে তুলে ওজন কমায়। এই হরমোনের কাজ হল বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা। বারে বারে খিদে পাওয়া, ভালমন্দ খাওয়ার ইচ্ছে, এ সব কিছুর কারণই হল ওই হরমোন। তাকেই যদি ধরেবেঁধে রাখা যায়, তা হলে খিদে কম হবে এবং খাওয়ার পরিমাণও কমবে। সেমাগ্লুটাইডও ঠিক এই কাজটিই করবে।

ওষুধটি আবার ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ করতেও কাজে আসবে। টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ওষুধ হিসেবেও এটিকে ব্যবহার করা যাবে বলে দাবি। রক্তে শর্করা বেশি রয়েছে যাঁদের, তাঁদের নির্দিষ্ট ডোজ়ে ওষুধটি দিলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। স্থূলত্বের কারণে যে ডায়াবিটিস হয়, তাকেও কাবু করতে পারবে এই ওষুধ। পাশাপাশি, হার্ট ভাল রাখতেও নাকি বিশেষ ভূমিকা নেবে ওষুধটি। এমনই দাবি জ়াইডাসের।

ওষুধটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নিতে হবে। যাঁদের স্থূলত্ব রয়েছে অর্থাৎ বডি-মাস-ইনডেস্ক (বিএমআই) ৩০ বা তার বেশি, তাঁরাই নিতে পারবেন এই ওষুধটি। তবে নির্দিষ্ট ডোজ়েই নিতে হবে। দেশের বাজারে ১৫ মিলিগ্রাম/ ৩ এমএল ডোজ়ে ওষুধটি আনা হচ্ছে। তবে কারা কোন ডোজ়ে নিতে পারবেন, তা চিকিৎসকই ঠিক করে দেবেন। কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার অনুমোদনে মার্চ মাসের মধ্যেই ওষুধটি দেশের বাজারে চলে আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এর দাম কত হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানায়নি জ়াইডাস।

Advertisement
আরও পড়ুন