জরায়ুমুখ ক্যানসারের কী কী টিকা রয়েছে দেশে? ছবি: ফ্রিপিক।
জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্যাল ক্যানসার নিয়ে চারদিকেই আলোচনা চলছে। ভারতীয় মহিলাদের এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। তাই এর প্রতিষেধক নিয়েও সরকারি তরফে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকাকরণ নিয়ে নতুন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই ১৪ বছরের কিশোরীদের বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা দেওয়া শুরু হবে দেশের নানা জায়গায়। গার্ডাসিল ৪ টিকাটিকেই এ ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই টিকাটির দাম তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। তবে গার্ডাসিল ৪ ছাড়াও জরায়ুমুখ ক্যানসারের আরও তিন রকমের প্রতিষেধক রয়েছে দেশে। সেগুলির ব্যাপারেও জেনে রাখা জরুরি।
জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ (এইচপিভি)। এর অসংখ্য উপরূপ রয়েছে। গবেষকেরা আপাতত ২০০ রকম উপরূপের খোঁজ পেয়েছেন। এর মধ্যে যেগুলি জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী, সেগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের ঠেকানোর জন্য প্রতিষেধক তৈরি করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে যে টিকাটি দেওয়া হচ্ছে তার নাম গার্ডাসিল ৪। সেটি এইচপিভির টাইপ ১৬ ও ১৮ রুখতে কার্যকরী ভূমিকা নেয়। এটি ছাড়াও গার্ডাসিল ৯, সার্ভাভ্যাক, সার্ভারিক্স নামক টিকাও বর্তমানে লভ্য।
কোন কোন এইচপিভি টিকা দেশে রয়েছে?
আমেরিকার তৈরি গার্ডাসিল ৯ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভাইরাস উপরূপকে ঠেকাতে পারে। এটি এইচপিভি টাইপ ৬, ১১, ১৬, ১৮, ৩১, ৩৩, ৪৫, ৫২, ৫৮ উপরূপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারবে। এই টিকার দামও বেশি। প্রতি ডোজ়ের নাম ৯ থেকে ১১ হাজারের মধ্যে।
সার্ভারিক্স টিকাটিও আমেরিকার তৈরি। এটি এইচপিভি ১৬ ও ১৮ উপরূপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারবে, এর দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যে।
দেশের তৈরি এইচপিভি টিকা হল সার্ভাভ্যাক। সেটি তৈরি করেছে পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। এই প্রতিষেধকটি ভাইরাসের ৬,১১, ১৬ ও ১৮ উপরূপ ঠেকতে সক্ষম। এটির দাম ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।
এইচপিভি টিকা নেওয়ার আদর্শ বয়স ৯ বছর। তবে বয়স অনুপাতে টিকার ডোজ় ভিন্ন হবে। এই বয়সে টিকা নিলে দু’টি ডোজ়ে টিকা নিতে হবে ৬-১২ মাসের ব্যবধানে। ১১ থেকে ১২ বছরেও টিকা নেওয়া যাবে দু'টি ডোজ়ে। বয়স ১৫ বছর বা তার বেশি হলে তিনটি ডোজ়ে টিকা নিতে হবে। প্রথম ডোজ় নেওয়ার ১ থেকে ২ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ় এবং ৬ মাস পরে তৃতীয় ডোজ় নিতে হবে। তবে এর থেকে বেশি বয়সে টিকা নিতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।