হিন্দু ধর্মে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই অনুযায়ী এক একটি অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাঘ মাস। মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথি মৌনী অমাবস্যা নামে পরিচিত। মনে করা হয়, পবিত্র এই তিথিতে নদীতে স্নান করলে পুণ্য লাভ করা যায়। মৌনী অমাবস্যায় মৌনব্রত পালনেরও চল রয়েছে। বিশেষ কিছু কাজ রয়েছে যা এই দিন করলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। তেমনই কয়েকটি কাজ রয়েছে যা মৌনী অমাবস্যা তিথিতে করা উচিত নয়। জেনে নিন সেগুলি কী।
মৌনী অমাবস্যা তিথি কখন শুরু ও শেষ হচ্ছে?
তিথি শুরু: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার।
সময়: রাত ১২টা ৩ মিনিট।
তিথি শেষ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার।
সময়: রাত ১টা ২১ মিনিট।
যেহেতু হিন্দু ধর্মে সূর্যোদয় মেনে তিথি গণনা করা হয়, সেই অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পালিত হবে মৌনী অমাবস্যা।
মৌনী অমাবস্যার দিন কোন কাজগুলি করবেন?
- ওই দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে নদীতে স্নান করতে পারলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। স্নান শেষে সূর্যদেবের কাছে মনোস্কামনা জানাতে ভুলবেন না।
- মৌনী অমাবস্যায় সারা দিন চুপ থেকে মৌনব্রত পালন করতে পারলে খুব ভাল হয়। তবে সেটি সম্ভব না হলেও ওই দিন পুজো দেওয়া ও খাওয়ার সময় কথা না বলার চেষ্টা করুন। এরই সঙ্গে সারা দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলবেন না। কটু কথা বলা থেকেও বিরত থাকুন।
- যে কোনও অমাবস্যা তিথিই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। মৌনী অমাবস্যা তিথিতে পূর্বপুরুষদের জল দান করুন। তাঁদের আশীর্বাদ লাভ করবেন। যাঁরা পিতৃদোষে ভুগছেন, তাঁদেরও দোষের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
- নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। সম্ভব হলে উপবাসও রাখুন।
- সম্ভব হলে এই দিন দুঃস্থ ব্যক্তিদের তিল, গুড়, জুতো, শীতের জামা প্রভৃতি দান করা যেতে পারে।
মৌনী অমাবস্যায় কোন কাজগুলি করা নিষেধ?
- এই দিন বেলা পর্যন্ত ঘুমোবেন না। এতে ভাগ্যের উপর কুপ্রভাব পড়তে পারে।
- কারও সঙ্গে ঝগড়া-অশান্তিতে জড়াবেন না। অহেতুক তর্ক এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
- যে কোনও প্রকার তামসিক খাবার, যেমন মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, মদ প্রভৃতি এই দিন খাবেন না।
- অমাবস্যার রাত মানেই অশুভ শক্তিদের রাত। এই রাতে মহিলারা চুল খুলে বেরোবেন না। এ ছাড়া যে কোনও নির্জন স্থান, শ্মশানের কাছে না যাওয়াই ভাল হবে।