২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার অক্ষয় তৃতীয়া। যদিও রবিবারই তিথি
লেগে যাচ্ছে বলে অনেকে সেই দিনটিতে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করবেন। তবে হিন্দু ধর্মে, তিথি
যে দিন ভোর পায়, সেই দিনটি পালিত হয়। সেই অনুযায়ী সোমবারই অক্ষয় তৃতীয়া
পড়ছে। অক্ষয় তৃতীয়া অত্যন্ত শুভ একটি দিন। এই দিনটি অনেকেই শুভ কাজ শুরুর জন্য
বেছে নেন। অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র তিথিতে বাড়িতে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করা শুভ বলে
মানা হয়। তবে তার জন্য পুরোহিত ডাকার দরকার নেই। নিজের মনোমতো করে, সঠিক কিছু নিয়ম
মেনেও পুজো করা যেতে পারে। কী করবেন, জেনে নিন।
তিথি:
তৃতীয়া তিথি আরম্ভ–
৫ বৈশাখ, ১৯ এপ্রিল, রবিবার।
সময়– সকাল ১০টা ৫১ মিনিট।
তৃতীয়া তিথি শেষ–
৬ বৈশাখ, ২০ এপ্রিল, সোমবার।
সময়– সকাল ৭টা ২৮ মিনিট।
পুজোর উপকরণ:
অক্ষত চাল, সিঁদুর, হলুদ, ফুল, দূর্বা, ঘট, আম্রপল্লব,
রুপোর মুদ্রা (না হলেও চলে), নারকেল, হলুদ সুতো, ঘি বা তেল।
নিয়ম:
- প্রথমে যে স্থানে পুজো করবেন, সেই জায়গা পরিষ্কার করে একটা লাল
রঙের কাপড় পাতুন। তার পর সেখানে লক্ষ্মী এবং গণেশের মূর্তি বসান।
- সামনে ঘট পাতুন। ঘটের গায়ে তেল-সিঁদুরের মিশ্রণ দিয়ে
স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে দিন। ঘটটি জল (গঙ্গাজল হলে ভাল হয়, সাধারণ জলও চলতে পারে)
দ্বারা পূর্ণ করে তার উপর আম্রপল্লব এবং নারকেল বসান। নারকেলটির গায়েও
তেল-সিঁদুরের মিশ্রণের তিনটে ফোঁটা দিন। তার উপর হলুদ সুতো রেখে দিন।
- অক্ষত চালে হলুদ এবং সিঁদুর মিশিয়ে একটি ছোট কাঁসার থালায় রাখুন।
তাতে রুপোর মুদ্রা রেখে লক্ষ্মী-গণেশের ডান দিকে রেখে দিন। সেটির মধ্যে একটু হলুদ
এবং সিঁদুর রাখতে পারেন যা পুজোশেষে কপালে পরে নিতে পারেন।
- গণেশকে দূর্বা দিন। লাল, হলুদ প্রভৃতি রঙের ফুল দিয়ে
লক্ষ্মী-গণেশকে সাজিয়ে নিন।
- এ বার মনোমতো নৈবেদ্য থালায় সাজিয়ে ঠাকুরের সামনে রাখুন। এ
ক্ষেত্রে হলুদ রঙের মিষ্টি এবং মরসুমি ফল দিতে ভুললে চলবে না। নৈবেদ্যের উপর ফুল
ছড়িয়ে দিন।
- সব শেষে ধূপ এবং ঘি বা তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রথমে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন এবং মনোস্কামনা জানান। মন চাইলে গণেশ এবং লক্ষ্মীর মন্ত্রপাঠের পরও
এ কাজ করতে পারেন। পুজো সম্পন্ন হল।