হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী যাঁরা, তাঁদের কাছে প্রদীপে গুরুত্ব
বিশেষ। নিত্যপুজোর শেষে প্রদীপ না জ্বালালে পুজো যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রায়
সকল হিন্দু বাড়িতেই প্রদীপ জ্বালানোর চল রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রদীপ
না জ্বালালে হিন্দু দেবদেবীদের পুজো সম্পন্ন হয় না। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার তেল বা
ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর পৃথক পৃথক গুরুত্বও রয়েছে। তবে প্রদীপে কোন প্রকার সলতে
ব্যবহার করছেন সেটির উপরও অনেক বিষয় নির্ভর করে। উভয় সলতে দিয়েই প্রদীপ জ্বালানোয়
কোনও বাধা নেই। কিন্তু উভয়ের বৈশিষ্ট্য এক নয়। শাস্ত্রে সলতে সম্বন্ধে কী বলা
রয়েছে, জেনে নিন।
লম্বা সলতের গুরুত্ব:
- বাস্তুশাস্ত্র মতে, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর পুজোয় সর্বদা
লম্বা সলতে ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে বংশবৃদ্ধি হয় বলে বিশ্বাস। এরই সঙ্গে ধনসম্পদ
লাভ করা যায়।
- বাড়ির দক্ষিণ দিকে, অর্থাৎ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে যে
প্রদীপ জ্বালানো হয়, সে ক্ষেত্রে লম্বা সলতে ব্যবহার করা উচিত। এতে তাঁদের আত্মা
শান্তি পায়।
- অর্থকষ্টে ভুগলে লক্ষ্মীদেবীর সামনে লম্বা সলতের প্রদীপ
জ্বালানো উচিত। এতে অর্থকষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
গোল সলতের গুরুত্ব:
- বাস্তুশাস্ত্র মতে, নিত্যপুজোর ক্ষেত্রে গোলাকার সলতে
ব্যবহার করাই শ্রেয়। এতে পরিবারে সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়। মন স্থির হয়। যে কোনও
বিষয়ে একাগ্রতা বাড়ে।
- শিব, বিষ্ণু এবং বজরংবলীর পুজোয় গোলাকার সলতে ব্যবহারের
নিদান দিচ্ছে শাস্ত্র। এ ছাড়া যে কোনও দেবদেবীর পুজোয় গোলাকার সলতে ব্যবহার করাই
ভাল। তবে লম্বা সলতে ব্যবহারেও সমস্যা নেই।
- পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি পেলে বাড়িতে গোলাকার সলতের
প্রদীপ জ্বালানো যেতে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি
ঘটবে।