প্রায় প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে তুলসীমঞ্চ না থাকলেও,
নিদেনপক্ষে একটি তুলসীগাছ থাকে। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা মনে করেন, তুলসীগাছের
সঙ্গে ভগবান বিষ্ণু এবং ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মীর সংযোগ রয়েছে। পবিত্র এই গাছকে মা
লক্ষ্মীর প্রতিরূপ হিসাবে কল্পনা করা হয়। মনে করা
হয়, যে বাড়িতে একটি সতেজ তুলসী গাছ থাকে, সেখানে কোনও অমঙ্গল বা নেগেটিভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না।
প্রতি দিন তুলসীগাছে জল দেওয়া এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
ও শঙ্খ বাজিয়ে প্রণাম করা একটি চিরাচরিত হিন্দু রীতি। তবে,
হিন্দু ধর্মে
এর মাহাত্ম্য থাকার কারণে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে
চলতে হবে। অন্যথায় শুভ ফল লাভের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা
দেখা যায়।
জেনে নিন, এই গাছটি স্পর্শ করা, এর পাতা তোলা এবং
জল দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী রীতি পালন করতে হবে—
-
অস্নাত অবস্থা: স্নান
করে, পরিষ্কার ধোয়া জামা পরে তবেই পবিত্র এই গাছ স্পর্শ করতে হবে। মাছ-মাংস খাওয়ার পরেও এই
গাছ ছোঁয়া ঠিক না।
-
রবিবার: সপ্তাহের প্রথম
দিনটিকে বিষ্ণুর বার হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। তুলসীগাছের সঙ্গে যেহেতু ভগবান বিষ্ণু
এবং লক্ষ্মীদেবী সম্পর্কিত, তাই এই দিন তুলসীপাতা তোলা তো দূরস্থান, এমনকি গাছটিতে
জল দেওয়া বা স্পর্শ করাও অনুচিত।
-
একাদশী তিথি: বিশেষ এই তিথিকে বিষ্ণুর তিথি মনে করা হয়। ভগবান
বিষ্ণুর সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত তুলসীগাছের পাতা তাই এই তিথিতে ছেঁড়া নিষেধ। গাছটিতে
জল দেওয়া বা স্পর্শ করাও অনুচিত।
-
সন্ধ্যাবেলা: সূর্যদেব অস্ত যাওয়ার পরের সময় মা লক্ষ্মীর
প্রতিরূপ তুলসীর বিশ্রামের কাল বলে কল্পনা করা হয়। তাই সন্ধ্যায় এর পাতা তোলা বা
গাছটিকে ছোঁয়া তাঁকে বিরক্ত করারই নামান্তর। তাই এই কাজে বিরত থাকতে হবে।
-
অশৌচ: তুলসীগাছকে দেবীর প্রতিমূর্তি রূপে বিশ্বাস করে থাকেন
হিন্দুরা। তাই অশৌচ চলাকালীন যেমন অন্যান্য শুভ কাজে যোগ দেওয়া বারণ, তেমনই পবিত্র
এই গাছকেও স্পর্শ না করার কথাই বলা হয়। পিতৃপক্ষ চলাকালীনও এই রীতি মেনে চলতে হবে।