Dearness allowance

সরকারপোষিত সংস্থার কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর রাজ্য, তথ্য জমা দিতে বলল অর্থ দফতর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এখনও সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার প্রস্তুত না হওয়ায় বকেয়া পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১২
State Moves Swiftly to Clear Arrears of DA for Grant-in-Aid Staff and Pensioners; Finance Department Urges Submission of Data

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর রাজ্য। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রাজ্য সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থার কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দ্রুত মিটিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ দফতর। সূত্রের খবর, বুধবার নবান্নে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের পদস্থ কর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়।

Advertisement

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র। উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক, গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত দফতরের সচিব-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। বৈঠকে গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অর্থ দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এখনও সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার প্রস্তুত না হওয়ায় বকেয়া পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিভিন্ন দফতরের অধীন সহায়তাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন কাঠামো, কর্মকাল, প্রাপ্য ডিএর পরিমাণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নির্ভুল ভাবে জমা দিতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত সময়সীমার বকেয়া ডিএ গণনা করে পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হবে। ফলে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে অর্থ দফতর। প্রশাসনিক মহলের মতে, গ্রান্ট-ইন-এইড সংস্থার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপ সেই অসন্তোষ অনেকটাই প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে কবে থেকে অর্থপ্রদান শুরু হবে, তা নির্ভর করছে তথ্য জমা দেওয়ার গতির ওপর।

এদিকে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির একাংশ আধিকারিকের মতে, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য একত্র করা একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবুও রাজ্যের নির্দেশ মেনে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। অর্থদফতরও নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্যের এই সক্রিয়তা প্রশাসনিক স্তরে গতি আনতে চলেছে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisement
আরও পড়ুন