ছবি: সংগৃহীত।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে-তকতকে ঘরবাড়িতে মা লক্ষ্মীর আসন পাতা থাকে বলে মনে করা হয় জ্যোতিষশাস্ত্রে। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ঘর পছন্দ করেন না তিনি। তবে শুধু ঘর সাফসুতরো রাখলেই হয় না। বাস্তুমতে ধনদেবীকে তুষ্ট করার জন্য আরও একটি উপায় রয়েছে। ঘরের দেওয়ালের রঙের উপরও নির্ভর করে সংসারের আয়পয় ও শ্রীবৃদ্ধি। কারণ ঘরের সঠিক রং নির্বাচন না করা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঘরবাড়িকে রঙিন করে তোলার আগে জেনে নিন কোন রং করলে অশান্তি ও অর্থকষ্ট দূর হয়ে যায়।
বাস্তুবিদদের মতে, বাড়ির প্রধান শোয়ার ঘরটি হওয়া উচিত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। এই ঘরের দেওয়ালে সব সময় ফিকে রঙের প্রলেপ দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে হালকা বেগনি বা হালকা নীল রং করালে গৃহশান্তি বজায় থাকে। আবার অতিথিদের জন্য যে ঘরটি বরাদ্দ থাকে তা উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অতিথিকক্ষে সাদা রং করালে তা ইতিবাচক শক্তি টেনে আনতে সাহায্য করে। বাড়ির শিশুদের জন্য যে ঘরটি রাখা হয় সেটিও উত্তর-পশ্চিম কোণে থাকা উচিত। এই ঘরেও সাদা রং ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
বাড়ির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল রান্নাঘর। হিন্দুশাস্ত্রমতে হেঁশেলে দেবী অন্নপূর্ণা অধিষ্ঠান করেন। তাই এই ঘরে গাঢ় রং ব্যবহার করা শুভ বলে ধরা হয়। লাল অত্যন্ত শক্তিশালী রং বলে মনে করা হয়। এটি ইতিবাচকতাও বাড়ায়। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, রান্নাঘরে লাল রং করলে বাড়ির সদস্যদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
ঠাকুর রাখার স্থান বা পুজোর ঘর যদি রং করতে হয়, তা হলে হলুদ বা কমলা রং ব্যবহার করাই ভাল। এই দু’টি রংকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। সংসারে অর্থের জোগান বজায় রাখার জন্য বাড়ির উত্তর দিকের দেওয়ালে সবুজ রং করান। বাস্তুমতে, উত্তর দিক হল কুবেরের স্থান। তাই সেখানে সবুজের ছোঁয়া থাকলে মা লক্ষ্মী ও কুবেরের আশীর্বাদের অভাব হয় না।