দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সিপিএমের অন্যতম তরুণ মুখ তিনি। বাম রাজনীতিতে আসেন পারিবারিক সূত্র ধরেই। দিল্লিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ভাবে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। লড়ছেন রাজ্যের ভোট ময়দানেও। এ বার ফের দীপ্সিতা ধরকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। বামেদের তরুণ নেত্রীর নিজের নামে কোনও বাড়ি নেই। নেই জমিজমাও। দামি গয়নাও নেই নিজের।
গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোট— তাঁকে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। এ বারও দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার বালি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দীপ্সিতা। ২০২৪ সালে লড়েন হুগলির শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। এ বার তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার দমদম উত্তরে। দ্বিতীয় দফায়, আগামী ২৯ এপ্রিল ভোট রয়েছে এই আসনে। ইতিমধ্যে দমদম উত্তর আসনে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দীপ্সিতা। তাঁর ক’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, কত টাকা রয়েছে সেখানে সেই সব তথ্য উঠে এসেছে দীপ্সিতার নির্বাচনী হলফনামায়।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দীপ্সিতা জানিয়েছিলেন, তাঁর ২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। সেই সময়ে তাঁর নিজের নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি, জমিজমা ইত্যাদি) ছিল না। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে সিপিএম নেত্রী জানিয়েছিলেন, ওই সময়ে ব্যাঙ্কে তাঁর ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা ছিল। এ বারের হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ব্যাঙ্কে তাঁর জমানো টাকা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় দীপ্সিতা জানিয়েছেন, তাঁর হাতে ওই সময়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিল। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট। অ্যাকাউন্টগুলিতে রয়েছে ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা, ১৯ হাজার ১৭৫ টাকা এবং ৭৮২ টাকা।
এ ছাড়া পোস্ট অফিসেও টাকা গচ্ছিত রেখেছেন দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী। পোস্ট অফিসে তাঁর ৫০ হাজার টাকা জমানো আছে। পিপিএফ অ্যাকাউন্টেও রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে তাঁর কোনও বিনিয়োগ নেই। বাজারে নেই কোনও ঋণও। নিজের নামে গাড়ি নেই। দামি গয়না নেই। জমিজমা, বাড়িও নিজের নামে নেই। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট ৭ লক্ষ ১৮ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
হলফনামায় দীপ্সিতা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর নামে একটিই এফআইআর রয়েছে থানায়। কলকাতায় দক্ষিণ বন্দর থানায় ২০২৪ সালে ওই এফআইআরটি দায়ের হয়েছিল। বেআইনি জমায়েত এবং পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই এফআইআরের ভিত্তিতে আলিপুর আদালতে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে একটি মামলা বিচারাধীন পর্যায়ে রয়েছে। তবে মামলায় কোনও চার্জগঠন হয়নি।
২০০৮ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন দীপ্সিতা। তার পরে ২০১৩ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক হন। এর পরে তিনি স্নাতকোত্তর করেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে। জোড়া স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে জেএনইউ থেকে কলাবিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি। পরে ২০১৯ সালে দর্শনে স্নাতকোত্তর করেন। ২০২৫ সালে জেএনইউ থেকেই দর্শনে পিএইচডি করেন দীপ্সিতা। ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকার উপর সুদই রিসার্চ স্কলার দীপ্সিতার আয়ের উৎস।