কোষ্ঠীতে থাকা ভয়ঙ্কর দোষ বা যোগগুলির মধ্যে কালসর্প দোষ
অন্যতম। এর প্রভাবে সাজানো জীবন তছনছ হতে বিশেষ সময় লাগে না। সাধারণত কোষ্ঠীর
নির্দিষ্ট কিছু ঘরে রাহু-কেতুর অবস্থানের ফলে সৃষ্ট হয় এই মারাত্মক যোগ। কোষ্ঠীতে
থাকা সাত গ্রহ, যেমন- বৃহস্পতি, রবি, চন্দ্র,
মঙ্গল, বুধ, শুক্র এবং
শনি রাহু-কেতুর ছায়ায় আবদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তাদের ফলদানের ক্ষমতার নিঃশেষ ঘটে।
সৃষ্ট হয় পূর্ণ কালসর্প যোগ। এদের মধ্যে যদি কোনও গ্রহ রাহু-কেতুর ছায়ার বাইরে
থাকে, তখন তাকে বলে আংশিক কালসর্প যোগ। এর প্রভাব কিছুটা কম ক্ষতিকারক হয়। এছাড়াও
শাস্ত্রে আরও নানা রকমের কালসর্প দোষের উল্লেখ পাওয়া যায়। কালসর্প দোষ থেকে বাঁচার
নানা উপায়ের কথাও শাস্ত্রে বলা রয়েছে। এরই সঙ্গে উল্লেখ পাওয়া যায় কিছু মন্ত্রেরও।
সেগুলি কী, জেনে নিন।
কালসর্প দোষের প্রতিকার:
- মহাদেব কালসর্প দোষের রূঢ় প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারেন।
তাই বাড়িতে শিবলিঙ্গ রাখতে হবে। সেটিকে প্রতি সোমবার করে পঞ্চামৃত সহযোগে অভিষেক
করা জরুরি। এরই সঙ্গে প্রতি দিন সেই শিবলিঙ্গের পুজো করতে হবে।
- নাগ পঞ্চমী তিথিতে কোনও শিব মন্দিরে গিয়ে রুপোর তৈরি সাপ
দান করুন। এরই সঙ্গে শিবলিঙ্গে দুধ অভিষেক করুন। খুব ভাল ফল পাবেন।
- দিনে ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করার চেষ্টা করুন। এ
ক্ষেত্রে মনে ভক্তি এবং নিষ্ঠা রাখা দরকার। মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র আমাদের যে কালসর্প
দোষের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। ব্যস্ততার কারণে যদি ১০৮বার সম্ভব
না হয়, তা হলে ২৮ বার পাঠ করা যেতে পারে।
- এ ছাড়া রাহুর মন্ত্র ‘ওম রাহাভে নমো’ এবং কেতুর মন্ত্র ‘ওম
কেতভে নমো’, এই দুই মন্ত্র নিয়মিত যত বেশি বার পারবেন জপ করুন। ভাল ফল পেলেও পেতে
পারেন।
- জীবনধারায় নিয়মনিষ্ঠা আনা জরুরি। ছন্নছাড়া জীবন কাটানো
এড়িয়ে চলুন। যদিও কালসর্প দোষের প্রভাবে মানুষ ভ্রম দ্বারা আচ্ছন্ন হন। তবে
চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব রুটিন মাফিক জীবন কাটানোর। জীবনধারায় সুপরিবর্তন আনলে কালসর্প
দোষের প্রভাব থেকে কিছুটা হলেও রেহাই মেলে।