সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, তুলসীগাছকে অত্যন্ত পবিত্র ও লক্ষ্মীদেবীর রূপ হিসাবে গণ্য করা হয়। শাস্ত্রে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ভুল দিনে বা ভুল উপায়ে তুলসীগাছের পাতা বা ডাল ভাঙলে গৃহের সুখ-শান্তি নষ্ট হতে পারে এবং আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। ভুল দিনে বা ভুল নিয়মে তুলসীপাতা তুললে ঘরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। শাস্ত্রানুযায়ী কোন দিনগুলিতে তুলসীপাতা তোলা নিষিদ্ধ এবং কী নিয়মে তা তোলা শুভ, তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
- একাদশী হল ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ তিথি। বিশ্বাস করা হয়, এই দিন তুলসীদেবী ভগবান বিষ্ণুর জন্য উপবাস রাখেন এবং দ্বাদশীর দিন বিশ্রাম নেন। তাই এই দুই দিন তুলসীপাতা ছিঁড়লে বা গাছে জল দিলে অমঙ্গল হয়।
- রবিবারকে জ্যোতিষশাস্ত্রে নিষ্ঠুর বার বলা হয়। এ ছাড়া বিশ্বাস করা হয়, এই দিন তুলসীপাতা ছিঁড়লে দেবী লক্ষ্মী রুষ্ট হন। এর ফলে পরিবারের সদস্যেরা আর্থিক সঙ্কটের শিকার হতে পারেন।
- মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার তুলসীপাতা ছেঁড়া নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। মঙ্গলবার বজরংবলীর পূজার জন্য তুলসীপাতা স্পর্শ করা অনুচিত। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী-নারায়ণের দিন হওয়ায় তুলসীপাতা ছেঁড়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
- প্রতি মাসের সংক্রান্তি, অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে তুলসীপাতা তোলা বা গাছের ডাল ভাঙা উচিত নয়।
- জ্যোতিষমতে সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের সময় তুলসীগাছ স্পর্শ করা বা পাতা তোলা একেবারেই নিষিদ্ধ।
- সূর্যাস্তের পর বা সন্ধ্যার সময় তুলসীগাছে হাত দেওয়া বা পাতা তোলা অশুভ বলে গণ্য করা হয়। এই সময় তুলসীদেবী বিশ্রাম নেন বলে মনে করা হয়।
যদি নিষিদ্ধ দিনেও পূজার জন্য তুলসীপাতার প্রয়োজন হয়, তবে আগের দিনই পাতা তুলে রাখা উচিত। কারণ, তুলসীপাতা বাসি হলেও তা পূজায় ব্যবহার করা যায়। বিশ্বাস করা হয় যে, ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত তুলসীপাতা পবিত্র থাকে। এ ছাড়া, মাটিতে নিজে থেকে ঝরে পড়া তুলসীপাতা ধুয়েও পূজায় ব্যবহার করা যায়।
তুলসীপাতা বা ডাল ভাঙার সঠিক এবং শুভ নিয়মাবলির উল্লেখ করা হয়েছে—
- সব সময় স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরে এবং খালি পায়ে তুলসীতলায় যাওয়া উচিত। নোংরা হাতে বা জুতো পরে তুলসীগাছ স্পর্শ করা উচিত নয়।
- পাতা তোলার আগে হাতজোড় করে দেবী তুলসীর কাছে মনে মনে অনুমতি নিয়ে নিতে হয় অথবা স্পর্শ করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হয়।
- তুলসীপাতা ছেঁড়ার সময় কখনও নখের ব্যবহার করবেন না। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে পাতা বা মঞ্জরী আলাদা করতে পারেন।
- পাতা তোলার সময় যেন পুরো গাছটি নড়ে না ওঠে অথবা ডালপালা ভেঙে না যায়। খুব সাবধানে একটি একটি করে পাতা তুলতে হবে।
- প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পাতা একসঙ্গে তুলবেন না। গাছের একটা বড় অংশ বা সব পাতা একসঙ্গে তুলে গাছটিকে ফাঁকা করে দেওয়া অত্যন্ত অশুভ।
- ‘তুলস্যমৃতজন্মাসি সদা ত্বং কেশবপ্রিয়া। কেশবার্থে চিনোমি ত্বং বরদা ভব শোভনে।’— পাতা তোলার সময় এই মন্ত্রটি মনে মনে পাঠ করা অত্যন্ত শুভ ফল দেয়। এই নিয়মগুলি মেনে চললে তুলসীদেবীর আশীর্বাদে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকে।