Men's Health Risk

ক্রমাগত অম্বল না খিটখিটে মেজাজ, পুরুষের শরীরের সাধারণ ৭ লক্ষণও হতে পারে বিপজ্জনক

অফিসের তাড়াহুড়ো, সংসারের দায়িত্ব সামলে শরীরের যত্ন আর সে ভাবে নেওয়া হয়ে ওঠে না। বেশির ভাগ পুরুষই বলবেন যে, পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হলেও, নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তাঁরা সচেতন নন। অথচ পুরুষের শরীরে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকলেই বিপদ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৯
Men’s Health Warning Signs that may need serious medical attention

পুরুষের শরীরের কোন ৯টি লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই বিপদ? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

চল্লিশ বা পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে মহিলাদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা কথা হয়, পুরুষদের নিয়ে ততটা হয় না। অথচ পরিবারের পুরুষেরা নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশি কথা বলতেই চান না। সামান্য মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বা ওজন কমে যাওয়াকে কাজের চাপ বলেই ভেবে বসেন। কিন্তু এ সব সমস্যা যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তা হলে কোনও ভাবেই তাকে সাধারণ বলা যাবে না। যেমন, মাথাযন্ত্রণা যদি ক্রনিক হয়ে যায় অথবা আচমকাই ওজন কমতে থাকে, বিশ্রামের সময়েও শরীর ক্লান্ত লাগে বা অম্বলের সমস্যা ওষুধেও না সারে, তা হলে সতর্ক হতে হবে।

Advertisement

কোন কোন লক্ষণ অবহেলা করার নয়?

ঘন ঘন মাথাব্যথা এবং মাথা ঘোরা

তীব্র মাথা ব্যথা যা সময়ের সঙ্গে বাড়ছে, সেই সঙ্গে মাথা ঘোরা, ঘাড় ও কাঁধের যন্ত্রণা এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার সমস্যা বড় কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে। যদি দেখেন, মাঝেমধ্যেই মাথা ঘুরছে, বমি ভাব থাকছে, হাঁটাচলার সময়ে ভারসাম্য হারাচ্ছেন, তা হলে সতর্ক হতে হবে। এমন লক্ষণ উচ্চ রক্তচাপ, ভার্টিগো বা স্নায়বিক কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে।

দিনভর ক্লান্তি

পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও সারাক্ষণ ক্লান্ত ও দুর্বল বোধ করা এবং হাত-পায়ের পেশিতে ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। ক্লান্তি বিশ্রামের পরেও কমবে না। দিনভর ঝিমুনি থাকবে এবং খিদে কমে যেতে থাকবে। বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা, ডায়াবিটিস, রক্তাল্পতা বা থাইরয়েডের সমস্যা হলে এমন হতে পারে।

ওজনের হঠাৎ বদল

ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই যদি হঠাৎ ওজন কমতে থাকে এবং এক থেকে দু’মাসের মধ্যে অনেকটা ওজন কমে যায়, তা হলে সাবধান হতে হবে। কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ডায়াবিটিস, থাইরয়েড বা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে।

পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকা সত্ত্বেও ঘন ঘন পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, হাঁটতে গেলে পায়ে টান ধরা, কাফ মাসলে যন্ত্রণা হওয়া ভাল লক্ষণ নয়। অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যালশিয়াম জমা হলে, তা থেকে এমন হতে পারে। কোলেস্টেরল যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তার থেকেও কিছু লক্ষণ পায়ে ফুটে ওঠে। হার্ট, কিডনি বা লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলেও পা ফোলা, পায়ে জল জমার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তীব্র নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট

ঘুমোনোর সময় প্রচণ্ড জোরে নাক ডাকা এবং মাঝেমধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা যদি হয়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভাল। ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা দমবন্ধ হয়ে আসা, সারা শরীর ঘেমে যাওয়া হার্টের রোগ লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণেও হতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

খিটখিটে মেজাজ

কাছের মানুষটি কি যখন তখন রেগে যাচ্ছেন? মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন? পরিবারের সকলের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখছেন, ব্যবহারেও বদল আসছে? এমন লক্ষণ তীব্র মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদি দেখেন, সামান্য কারণেই মেজাজ হারাচ্ছেন, সব সময়েই মনখারাপ থাকছে বা একা থাকতে চাইছেন, তা হলে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন বা অ্যাংজ়াইটি ডিজ়অর্ডারের কারণে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যে কারণে ঘন ঘন মেজাজ বদলাতে পারে।

ক্রমাগত কোষ্ঠকাঠিন্য

ক্রমাগত কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘন ঘন ডায়েরিয়া, মলের সঙ্গে রক্ত পড়া বা তলপেটে যন্ত্রণা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অন্ত্রের ভিতরে দেওয়ালে প্রদাহ বা টিউমার হলে মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এটি কোলন ক্যানসার, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজ়িজ় বা ফুড ইনটলারেন্সের লক্ষণ হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন