Asthma and Eczema

হাঁপানি থেকে এগজ়িমাও হতে পারে? ফুসফুসের অসুখ কী ভাবে চর্মরোগের কারণ হয়ে ওঠে?

হাঁপানি শ্বাসজনিত অসুখ। এর সঙ্গে চর্মরোগের সম্পর্ক কী? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ফুসফুসের এই ভয়াবহ রোগটি এগজ়িমার মতো চর্মরোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তা কী ভাবে সম্ভব?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৩
Asthma Might Be Affecting Skin, Dermatologist says how It Triggers Eczema

হাঁপানি থেকে চর্মরোগ কী ভাবে হতে পারে, প্রতিকারের উপায় কী? ছবি: ফ্রিপিক।

হাঁপানি অতি বিষম বস্তু। যাঁরা ভোগেন, তাঁরা এর যন্ত্রণা বিলক্ষণ জানেন। হাঁপানি সারানো যায় না, এর তীব্রতা কমিয়ে অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। ফুসফুসের এমন ভয়াবহ রোগটির সঙ্গে এগজ়িমার কী সম্পর্ক থাকতে পারে?

Advertisement

সাম্প্রতিক নানা গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, হাঁপানি থাকলে পরবর্তীতে এগজ়িমার মতো চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। অথবা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো সারা গায়ে লালচে র‌্যাশ বেরোতে পারে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অ্যালার্জি, অ্যাজ়মা অ্যান্ড ইমিউনোলজি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, হাঁপানিও ফুসফুসের এক প্রকার অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, যা ধুলোবালি, ধোঁয়া, পরাগরেণু বা বাতাসে ভাসমান দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে এলে আরও বেড়ে যায়। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্‌থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রেও এমনটাই দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, শরীরে তীব্র প্রদাহ তৈরি হতে থাকে। এই প্রদাহের কারণেই ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়তে থাকে। যার পরিণামে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু কম থাকে, তাই তাদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। হাঁপানির সমস্যা যদি গোড়ায় ধরা না পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা না হয়, তা হলে পরবর্তীতে চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হাঁপানি থেকে কী ভাবে এবং কেন এগজ়িমা হয়?

হাঁপানি হলে শ্বাসনালির ভিতরে মারাত্মক প্রদাহ তৈরি হয়। বিশেষ করে মরসুম বদলের সময়ে, ধুলো-ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে, অথবা কোনও অ্যালার্জেন (ফুলের রেণু, পশুর লোম, বাতাসে ভাসমান দূষণবাহী কণা) শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে প্রদাহ বেড়ে যায়। এতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক ব্যাস কমে এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে। ফলে ফুসফুসের ভিতরে বাতাস ঢোকা ও বেরোনোর পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ে। শ্বাসনালির ভিতর মিউকাসের ক্ষরণ বাড়তে বাড়তে তা আরও সঙ্কুচিত হতে থাকে। শ্বাসনালির প্রদাহের কারণে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তাতে রক্তকণিকাতেও প্রদাহ তৈরি হতে থাকে। ফলে ত্বকের রক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে ত্বকও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং জ্বালা-চুলকানি, র‌্যাশ হতে দেখা যায়। এমনও দেখা গিয়েছে, ধুলোবালি বা দূষিত পরিবেশে থাকার কারণে হাঁপানি ও এগজ়িমার সমস্যা একই সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়েছে। এতে যেমন রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তেমনই মুখ, হাত, কনুই এবং হাঁটুর পিছনের ত্বকে লালচে বা কালচে ছোপ বা র‍্যাশ বেরিয়ে যায়।

হাঁপানির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এগজ়িমা বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের অসুখ হতে পারে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেতে হয় অনেককে, অথবা ইনহেলারের মধ্যেও স্টেরয়েড থাকে। তা থেকে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, র‌্যাশ হতে পারে।

সারবে কী উপায়ে?

হাঁপানির জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে বা চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ইনহেলার নিতে হবে। এগজ়িমা থেকে রেহাই পেতে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি, ত্বকের যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। বাজারচলতি ময়েশ্চারাইজ়ারে যদি অ্যালার্জি হয়, তা হলে নারকেল তেল ত্বকে লাগাতে পারেন। নিয়মিত নারকেল তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ দই মিশিয়ে শুষ্ক, খসখসে ত্বকে মালিশ করুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এতে র‌্যাশ, চুলকানির সমস্যা অনেক কমে যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন