আমাদের তালু ঠিকঠাক ভাবে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, তাতে
বিভিন্ন দাগ ছাড়া আরও নানা জিনিস রয়েছে। তালুর কোনও অংশ নীচু হয়, তেমনই কিছু ভাগ
হয় উঁচু। সকলের তালু সমান হয় না। ভিন্ন মানুষের তালুর পৃথক পৃথক অংশ উঁচু হয়। বহু
মানুষের আবার তালুতে নানা দাগও থাকে। হস্তরেখাবিদ্যা জানাচ্ছে, তালুর এক একটি উঁচু
ভাগ এক এক গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের কনিষ্ঠার নীচের দিকে, কব্জির উপরের
অংশটি চন্দ্রপর্বত নামে পরিচিত। সেই অংশের সঙ্গে চাঁদের সম্পর্ক রয়েছে। চন্দ্রপর্বতের
বিভিন্নতায় মানুষের ব্যক্তিত্বেও নানা পরিবর্তন দেখা যায়। সেগুলি কী, জেনে নিন।
- যে সকল ব্যক্তির তালুতে চন্দ্রপর্বত থাকে না, তাঁদের
মেজাজের কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া এক প্রকার অসাধ্য। এই সকল জাতক-জাতিকা যখন-তখন
রেগে যান। কখন কোন বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তা-ও বোঝা যায় না। তবে যে কোনও
সিদ্ধান্ত এঁরা চিন্তাভাবনা করে নিতে পছন্দ করেন। এঁরা মনের থেকে বেশি মাথার কথা
শোনেন। নিজেদের উন্নতিকে বেশি অগ্রাধিকার দেন।
- মাঝারি চন্দ্রপর্বত থাকা জাতক-জাতিকারা স্বপ্ন দেখতে
ভালবাসেন। এঁরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখতে পছন্দ করেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করে এগোন।
আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেও দ্বিধা করেন না এই সকল জাতক-জাতিকা। তবে
এঁরা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হন। ছোটখাটো বিষয়ে দুঃখ পেয়ে যান। সেটি নিয়ে ভাবতে ভাবতে
প্রচুর সময় নষ্ট করে ফেলেন। সেই কারণে এঁদের স্বপ্ন পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়।
- যে সকল জাতক-জাতিকার তালুতে সুউচ্চ চন্দ্রপর্বত থাকে,
তাঁরা কল্পনার মেঘে আচ্ছন্ন থেকে দিনযাপনে বিশ্বাসী। এঁরা বাস্তববিমুখ হন। সর্বদা
ভাবনার জগতে ব্যস্ত থাকেন। বাস্তববিমুখ হওয়ায় কার মনে কী চলছে তা এঁরা বুঝে উঠতে
পারেন না। সেই কারণে এঁদের প্রতারিত হতে হয়। যে কোনও শিল্পকর্মে এঁদের প্রচুর নামযশ
হয়। অপরের অধীনে থেকে, নিজের ছন্দে এঁরা সবচেয়ে ভাল কাজ করতে পারেন। ছোটখাটো
বিষয় এঁদের বিচলিত করে তোলে। অতিরিক্ত চাপের মুখে এঁরা মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে
পারেন না।