Weather Forecast of India

১০০০ কিমির দীর্ঘ মেঘের চাদরে ঢাকা পড়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত! বড় দুর্যোগের কোনও সঙ্কেত?

দিল্লি-এনসিআর-সহ পুরো উত্তর ভারতে গত কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। দিল্লিতে তো গত তিন বছরের বৃষ্টির রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। তাপমাত্রাও অনেকটা নেমে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪০
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি। ছবি: পিটিআই।

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি। ছবি: পিটিআই।

ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে আবহাওয়ার হঠাৎই বদল লক্ষ করছেন আবহবিদেরা। আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতার কারণে কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও প্রবল ঝড়, কোথাও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। দিল্লি-এনসিআর-সহ পুরো উত্তর ভারতে গত কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। দিল্লিতে তো গত তিন বছরের বৃষ্টির রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। তাপমাত্রাও অনেকটা নেমে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। মার্চের শুরুতেই এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি কি আবহাওয়া বদলের কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে?

Advertisement

আবহবিদেরা বলছেন, দিল্লি এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বৃষ্টির মূল কারণ হল সক্রিয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। এই ঘূর্ণাবর্তটি এখন পাকিস্তানের উপরে রয়েছে। আর আবহাওয়ার এই প্রক্রিয়ার কারণেই শুধু বৃষ্টি হচ্ছে এমন নয়, ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ও হচ্ছে। অনেক রাজ্যে আবার শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে। অন্য দিকে, এই একই প্রক্রিয়ার জন্য হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাত হচ্ছে।

সাধারণত পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আসে। ভূমধ্যসাগর থেকে এই ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। তার পর সেটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। যার জেরে তুষারপাত এবং শৈত্যপ্রবাহ হয়। কিন্তু এ বার ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণত শীতের শেষে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার দাপট কমে আসে। কিন্তু এ বার মার্চেও সেই ঝঞ্ঝার দাপট দেখা যাচ্ছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত দীর্ঘ ১০০০ কিলোমিটারের একটি সরলরেখার মতো নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা কার্যত বিরল। আবহবিদদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবহবিদেরা বলছেন, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প, যা ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং পারস্য উপসাগরের উপর জমাট বেঁধেছে। সেই জলীয় বাষ্প যখন উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ভারতের দিকে এগিয়েছে, তখন আরব সাগর থেকে আরও জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে তা বিশালাকার মেঘবলয়ের সৃষ্টি করেছে। আর সেই মেঘবলয়ের কারণেই গত কয়েক দিন ধরে ভারতের নানা প্রান্তে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যে এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার জেরে আগামী কয়েক দিন দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও শুক্র এবং শনিবার ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের গতি পৌঁছে যেতে পারে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টাতেও। বঙ্গোপসাগর থেকে এখনও প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত কিছু দিন সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার বেগ ৬০ কিলোমিটার। উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে উত্তরের প্রায় সব জেলায়। আগামী সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে তার পরেও।

অসম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও দুর্যোগের পূর্বাভাস রয়েছে। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল ও তামিলনাড়ুতেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রাজস্থান, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশেও শিলাবৃষ্টির সতর্ককা জারি করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন