—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ফাঁকা পড়েছিল বাড়িটা। কয়েক দিন ধরে সেখানেই নমাজ পড়ছিলেন স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের বরেলী জেলার মহম্মদপুর গ্রামে ১২ জনকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁরা জামিন পেয়ে যান। যদি এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ফাঁকা বাড়িতে নমাজ পড়ায় কেন গ্রেফতার হতে হল, তা এখনও পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারছেন নাগ্রামবাসীদের অনেকেই।
এ ব্যাপারে বরেলী পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটিতে অনুমতি ছাড়াই নমাজ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাতে ‘শান্তিভঙ্গ’ হচ্ছিল বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পরেই পদক্ষেপ করা হয়।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ফাঁকা বাড়িতে নমাজ পড়ছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এতেই হিন্দুত্ববাদীরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পুলিশ অভিযোগ পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২ জনকে আটক করে। পরে তাঁরা জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।
স্থানীয় পুলিশকর্তা অংশিকা বর্মা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক সপ্তাহ হল পরিত্যক্ত বাড়িটিকে অস্থায়ী মাদ্রাসা হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়ে অংশিকা বলেন, ‘‘অনুমতি ছাড়া কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপ বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত করা আইন লঙ্ঘন। এই ধরনের কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মালিক হানিফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওখানে থাকেন না। বাড়িটিকে নমাজ পড়ার জন্য ১২ জনকে আটক করা হলে তাঁরা কোনও লিখিত অনুমতিপত্রদেখাতে পারেননি।
প্রশ্ন উঠেছে, একটি ফাঁকা বাড়িতে কেউ ধর্মীয় আচরণ পালন করলে, কী ভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা যায়? পাশাপাশি, পুলিশ যে অনুমতির কথা বলছে, সব ক্ষেত্রে সব ধর্মের মানুষ কি তা মানেন?