বাবুভাই প্রজাপতি। —ফাইল চিত্র।
তাঁর জীবন থেকে কলঙ্ক মুছল। এখন যদি ঈশ্বর তাঁকে নিয়েও যান, কোনও দুঃখ থাকবে না। ৩০ বছর পর নির্দোষ ঘোষণা হতেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন বৃদ্ধ বাবুভাই প্রজাপতি। আদালতের রায় শোনার পরদিনই মৃত্যু হয় বাবুভাইয়ের। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
বাবুভাই অহমদাবাদে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতিদমন আইনে মামলা রুজু হয়। ১৯৯৭ সালে নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়। ২০০২ সালে চার্জ গঠন এবং পরের বছর নেওয়া হয় সাক্ষীদের বয়ান। ২০০৪ সালে বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তিন হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
তার পর তিনি গুজরাত আদালতের দ্বারস্থ হন নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে। ২২ বছর ধরে সেই মামলা ঝুলে ছিল। গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি হাই কোর্টে ওঠে। আদালত সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখার পর বাবুভাইকে বেকসুর খালাস করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাক্ষীদের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। বাবুভাই যে ঘুষ নিয়েছিলেন, তা সঠিক ভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী।
এই ঘোষণার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন বাবুভাই। তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘‘আমার চেম্বারে মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন বাবুভাই। বেশ খুশি লাগছিল। আমাকে বলেন, আমি কলঙ্কমুক্ত হলাম।’’ পরদিন বাবুভাইকে একটি কাজের জন্য ফোন করেন আইনজীবী। তখন তিনি জানতে পারেন বাবুভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।