Bangladesh Election

বাংলাদেশকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি করতে দেব না! ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি জামাত প্রধানের, সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা

জামাত বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল। দেশটির ৫৫ বছরের ইতিহাসে একাধিক বার জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও এই দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩০
জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমান।

জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর রহমান। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশকে ধর্মের ভিত্ততে ভাগাভাগি করতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনের আগে এমনটাই দাবি করলেন জামায়াতে ইসলামী (যা জামাত নামেই পরিচিত)-র প্রধান শফিকুর রহমান। আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন রয়েছে। তার আগে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি হিসাবে পরিচিতি পাওয়া জামাতকে কট্টরপন্থী ভাবধারার জন্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নিজেদের দেশেই। এ অবস্থায় জামাত প্রধানের মুখে ভোটের আগে শোনা গেল সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও।

Advertisement

শনিবার বাংলাদেশের হবিগঞ্জে একটি জনসভা করেন জামাত প্রধান। সেখানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে দেব না।” একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “এ দেশে চারটি ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে— মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান।” বস্তুত, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামাতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সে দেশের রাজনীতিকেরাই। শফিকুরদের সঙ্গে জোট বাঁধায় বাংলাদেশের তরুণদের দল এনসিপি-র সঙ্গ ত্যাগ করেছেন একাধিক নেতা-নেত্রী। তালিকায় রয়েছেন তাসমিন জ়ারার মতো অন্যতম আলোচিত মুখও। জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতায় তিনি এনসিপি ত্যাগ করে নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামাত বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল। দেশটির ৫৫ বছরের ইতিহাসে একাধিক বার জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও এই দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। তবে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে আবার সক্রিয় হয়েছে জামাত। ইসলামি শরিয়া আইন মেনে সরকার পরিচালনার পক্ষপাতী তারা। এমনকি, সন্তান পরিচালনার কর্তব্যের জন্য মহিলাদের কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার পক্ষেও জামাত সওয়াল করেছে বার বার। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য সামাজিক সমস্যা এই দলে প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, দুর্নীতি দূর করাই তাদের লক্ষ্য।

সম্প্রতি নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে জামাত। সেখানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কয়েকটি অঙ্গীকার রয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আলাদা করে চিন বা পাকিস্তানের কোনও উল্লেখ নেই। ইস্তাহারে জামাত লিখেছে, ‘‘প্রতিবেশী এবং নিকটবর্তী দেশগুলির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। সেই তালিকায় থাকবে ভারত, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপ এবং তাইল্যান্ড।’’ এ ছাড়া, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করা জামাতের বিদেশনীতির অন্যতম প্রাধান্য হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন