বিল গেটস। —ফাইল চিত্র।
রুশ মহিলাদের শয্যাশঙ্গী করে যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিল গেটস! বিশ্বখ্যাত শিল্পপতি তথা পরোপকারী ব্যক্তিটি ঠকিয়েছিলেন নিজের স্ত্রীকে। তা ছাড়া মাদকের নেশাও ছিল তাঁর। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ফাইলে এমনই দাবি করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে প্রথম বার মুখ খুললেন মাইক্রোসফ্টের প্রতিষ্ঠাতা। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং সাক্ষাতের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তবে মহিলাসঙ্গের কথা অস্বীকার করেন।
কুখ্যাত যৌন অপরাধীকে নিয়ে বিল বলেছেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে কাটানো প্রত্যেকটি মিনিটের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি দুঃখিত।’’
এপস্টিন ফাইলে প্রাক্তন স্বামীর নাম-সহ বিভিন্ন অস্বস্তিকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস জানিয়েছিলেন, এমন কিছু জিনিস রয়েছে, যা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি পুরোপুরি ওই তথ্য বিশ্বাস করেন না। তবে গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এপস্টিনের সর্বশেষ নথিপত্রে তাঁর নাম এবং অবৈধ সম্পর্কের তথ্য বার হওয়ার পরে শুধুমাত্র মুখপাত্রকে দিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। এই প্রথম বার সরাসরি অস্বস্তিকর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিল। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ৯ নিউজ়-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি না, ওঁর চিন্তাভাবনা কেমন ছিল। উনি কি কোনও ভাবে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছিলেন? জানি না।’’
২০২১ সালে বিলের সঙ্গে মেলিন্ডার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। আর এপস্টিনের সঙ্গে বিলের সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১১ সালে। মাইক্রোসফ্টের কর্ণধার নিজেই জানিয়েছেন, ২০১১ থেকে এপস্টিনের সঙ্গে বার কয়েক দেখা হয়েছে তাঁর। তিন বছর ধরে এপস্টিনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কখনও এপস্টিনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাননি এবং কোনও মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না।
এপস্টিনের মতো যৌন অপরাধীর সঙ্গে তাঁর কেন এবং কী ভাবে পরিচয় হয়েছিল?
বিলের দাবি, ‘‘আমি জানতাম উনি অনেক ধনী ব্যক্তিকে চিনতেন। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ আমার উদ্দেশ্য ছিল। তবে অতীতের দিকে ফিরে দেখলে এখন মনে হয়, ওঁর সঙ্গে দেখা করাটাই আমার ভুল ছিল।’’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও নিগ্রহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেফতারির মাসখানেকের মাথায় জেলেই আত্মহত্যা করেন তিনি। তবে এপস্টিন ফাইলে কারও নাম থাকা মানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনও অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত, তা বলা যায় না। তার প্রমাণও মেলেনি।
গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে আনে। তার মধ্যে রয়েছে ২০০০ ভিডিয়ো এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগে প্রকাশিত ফাইলগুলোয় এপস্টিনের সঙ্গেই দেখা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে।