SIR in Assam

বিশেষ সংশোধনে জুয়াচুরি ধরায় সাসপেন্ড বিএলও-ই

বিএলওদের অভিযোগ, এলাকায় এত জনের বিরুদ্ধে নাম কাটার ফর্ম জমা পড়েছে খবর পেয়ে তাঁরা বাড়ি বাড়ি খবর নিয়ে দেখেন সিংহভাগ অভিযোগই ভুয়ো।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।


অসমে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের সময়ে শ্রীভূমি জেলায় শ্রীমন্ত কানিশাইল গ্রামে এক জন ব্যক্তিই ১৩৩ জন ভোটারের বিরুদ্ধে নাম কাটার অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। এমনকি বিএলও ফর্ম যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, অভিযোগকারী তাঁর নিজের ও পরিবারের সকলের নামও ভোটার তালিকা থেকে কাটার দাবিতে জমা দিয়েছেন ৭ নম্বর ফর্ম। অবশ্য বিএলওর ফোন পেয়ে অবাক অভিযোগকারী জানান, তিনি একটিও ফর্ম জমা দেননি! অথচ, অফলাইনে জমা পড়া সব ফর্মে তাঁর সই ছিল! অসমে চলতে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে যে ব্যাপক কারচুপি, ভুয়ো ফর্ম জমা দেওয়া চলছে সেই অভিযোগ ওই ঘটনায় হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা, ঘটনাটি সকলের সামনে আনায় ওই বিএলও তথা স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা সুমনা চৌধুরী রহমানকেই উল্টে সাসপেন্ড করা হল। ক্ষুব্ধ সুমনা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ঘটনায় আরও ৪ বিএলওকেও শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।

বিএলওদের অভিযোগ, এলাকায় এত জনের বিরুদ্ধে নাম কাটার ফর্ম জমা পড়েছে খবর পেয়ে তাঁরা বাড়ি বাড়ি খবর নিয়ে দেখেন সিংহভাগ অভিযোগই ভুয়ো। তাঁরা তথ্য যাচাই করে ফর্মগুলি নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে ফেরত দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দফতরের সামনেই এলাকাবাসী তাঁদের ঘেরাও করেন। সকলের সামনে সুমনা বোঝান, ফর্মে বিস্তর গরমিল রয়েছে। এক জন ১৩৩টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। কিন্তু যাচাই করায় সব ভুল ধরা পড়েছে। তাঁর সেই সব বক্তব্য স্থানীয়রা মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। পরে সেই ভিডিয়ো দেখানো হয় বিভিন্ন চ্যানেলে। এরপরেই চাপ আসে সুমনাদের উপরে। ফর্মে সই করতে বলা হয়। কিন্তু সুমনা জানিয়ে দেন, ভুয়ো ফর্মে তিনি সই করবেন না।

সাজা হিসেবে আসে শো-কজ়ের চিঠি। ফোনে আসতে থাকে বিভিন্ন হুমকি। অবশ্য ওই ১৩৩টি আবেদন বাতিল হয়ে যায়। শো-কজ়ের জবাব দেওয়ার পরেও সুমনাকে শুধু ভোটের কাজ নয়, শিক্ষকতার কাজ থেকেও সাসপেন্ড করে চিঠি এসেছে জেলাশাসকের দফতর থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করা, অননুমোদিত ভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা, শৃ্ঙ্খলাভঙ্গ, কর্তব্যে অবহেলা ইত্যাদির অপরাধে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। কিন্তু যে অফিস কর্মী, ইআরও ভুয়ো ফর্ম জমা রাখলেন অফিসে, সেগুলি বিএলওকে দিলেন, ভুয়ো জেনেও ফর্মে সই করতে চাপ দিলেন- তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হয়নি।

আরও পড়ুন