—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
অসমের বরাক উপত্যকার কাটিগড়ায় একটি স্কুলে কেজি ক্লাসের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে ব্যস্ত। ছাত্রেরা টিফিন খাচ্ছে, গল্প করছে। তার মধ্যেই প্রথম বেঞ্চে বসা একটি শিশু বারবার মুখে হাত দিয়ে কিছু টেনে বার করার চেষ্টা করছে। তার হাতের ধাক্কায় চামচ পড়ে গেল। এক সহায়িকা তা তুলে দিলেও ছাত্রের অবস্থাকে পাত্তা দিলেন না। বন্ধুকে ছটফট করতে দেখে সহপাঠীরা শিক্ষিকাদের ডাকছিল, কিন্তু তাঁরা পাত্তাই দেননি। পরে দম আটকে বেঞ্চ থেকে নীচে পড়ে গেল ছেলেটি। অনেক ডাকাডাকির পরে সহায়িকা এসে তাকে টেনে বার করলেন। এলেন শিক্ষিকা। পাঁজাকোলা করে তাকে নিয়ে যাওয়া হল বাইরে। কিন্তু ততক্ষণে গঙ্গাপুরের বাসিন্দা শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এই গোটা ঘটনা ক্লাসের সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে এবং ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য জুড়ে। শিক্ষিকাদের গাফিলতিতে মৃত্যুর এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে উত্তপ্ত এলাকা। সমালোচনায় মুখর নেটদুনিয়া।
কাছাড়ের জেলাশাসক আয়ুষ গর্গ জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য স্কুল পরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসার ইতিমধ্যেই স্কুল পরিদর্শন করে ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে এবং বিস্তারিততদন্ত চলছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে আংশিক গাফিলতি থাকতে পারে। তবে তাঁদের দাবি, বাড়ি থেকে আনা চিপস গলায় আটকেই ওই ঘটনা ঘটেছে। অভিভাবকদের আগেই শিশুদের টিফিনে চিপস বা এ ধরনের প্যাকেটজাত খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
কাটিগড়া বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “অভিভাবকেরা যখন তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান, তখন তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের উপরেই থাকে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”