—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশকর্মীর কাছ থেকে কুপ্রস্তাব পেলেন ‘নির্যাতিতা’। অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মী বলেন, এফআইআর করতে হলে হোটেলে তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। শয্যাসঙ্গী হলে তার পর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে।
শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে আলিগড়ের একটি থানায় গিয়েছিলেন ২৫ বছরের যুবতী। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার আগে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্যোগে চালু হওয়া গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সিস্টেম (আইজিআরএস) পোর্টালে অভিযোগ করে বিচার চান।
সম্প্রতি ওই যুবতী অভিযোগ করেছেন, তিনি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করতে গেলে দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মী তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে একটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে এনেছেন নির্যাতিতা (অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। অভিযোগ, প্রথমে ওই কনস্টেবল বলেন, ‘‘সব শুনব, তুমি তোমার একটা আকর্ষণীয় ছবি তুলে পাঠাও আমাকে। ইদে উপহার দেব।’’ এখানেই শেষ নয়, এর পর নির্যাতিতাকে কনস্টেবল বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে একটা রাত কাটাও। হোটেলে যাই চলো। কোনও সমস্যা হবে না। তার পর ওকে (ধর্ষক) আমি জেলে পাঠাবই। দেখো, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে তো হবেই।’’
ওই অডিয়ো ক্লিপ এবং অন্যান্য প্রমাণের সাপেক্ষে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।
‘নির্যাতিতা’র দাবি, প্রথম দিন থানায় মৌখিক ভাবে অভিযোগ শুনে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন কনস্টেবল। তার পর তাঁর প্রেমিক (অভিযুক্ত) এবং তাঁর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করে তাঁকে ফোন করে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। ‘ধর্ষক’কে শাস্তি দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে শয্যাসঙ্গিনী হতে হবে বলে জোর খাটান ওই পুলিশকর্মী। ওই কনস্টেবলের মেসেজ, কল লিস্ট ইত্যাদি পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়েছেন অভিযোগকারিণী।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিভাগীয় তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর পর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।