শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে অভিষেকের প্রথম নির্বাচনী কর্মসূচি বুধবার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইদ মিটলেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রচারে নেমে পড়বেন, তা স্পষ্টই ছিল। শনিবার ইদের দুপুরেই অভিষেকের প্রচার কর্মসূচির প্রথম দু’দিনের নির্ঘণ্ট জানিয়ে দিল ক্যামাক স্ট্রিট। মঙ্গলবার থেকে প্রচারে নামছেন তিনি। দ্বিতীয় দিন, বুধবারই কর্মিসভা করতে যাবেন শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নন্দীগ্রামে। মমতা সোমবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে কর্মিসভা থেকে ভোটের প্রচার শুরু করছেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির ‘সেবাশ্রয়’-এর সূচনায় নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন অভিষেক। এ বার যাবেন ভোট চাইতে। মঙ্গলবার থেকে প্রচার শুরু করছেন অভিষেক। প্রথম দিন তাঁর কর্মসূচি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়। সেখানে জনসভা করবেন তিনি। গত ১২ বছরের রেওয়াজ হল, অভিষেক ভোটের প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই। এসআইআর পর্বে জেলায় জেলায় গিয়ে অভিষেক যে রণসঙ্কল্প সভা করেছিলেন, তারও প্রথম কর্মসূচি হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। ২০২৬ সালের ভোটেও সেই ধারা অব্যাহত রাখলেন তিনি।
বুধবার অবশ্য নন্দীগ্রাম ছাড়াও আরও কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র। প্রথমে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে জনসভা করবেন। তার পর কেশিয়াড়ি এবং নারায়ণগড় বিধানসভা নিয়ে জনসভা করার কথা তাঁর। সেই কর্মসূচি শেষ করে অভিষেক রওনা দেবেন নন্দীগ্রামের উদ্দেশে।
গত রবিবার বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গত মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেন মমতা এবং অভিষেক। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই নন্দীগ্রামের শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি পবিত্র কর অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পবিত্রকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
গত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর কাছে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। সেই আসনে পবিত্রের মতো প্রার্থী ওজনদার হল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, অঙ্ক কষেই পবিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে নন্দীগ্রামে। কী অঙ্ক? নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল অঞ্চলের নেতা পবিত্র। এক সময়ে তিনি তৃণমূল করতেন। ২০২০ সালে শুভেন্দুর পিঠোপিঠি সময়েই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে জেতা পঞ্চায়েত প্রধান। তৃণমূলের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে যে তিন নেতার উপর শুভেন্দু ভরসা করতেন, তাঁদের মধ্যে পবিত্র অন্যতম। তৃণমূল দেখাতে চাইছে তারা শুভেন্দুর ঘর ভেঙেছে!
একটা সময়ে ‘হিন্দু সংহতি’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন করতেন পবিত্র। পরবর্তীতে ‘সনাতনী সেনা’ নামেও একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। গত নির্বাচন থেকেই নন্দীগ্রামে ধর্মীয় মেরুকরণ প্রকট। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে যেমন সংখ্যালঘুদের আধিপত্য, তেমনই ২ নম্বর ব্লকে হিন্দু ভোটারেরাই নিয়ন্ত্রক। গত বিধানসভায় বয়াল-১ এবং ২ অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু। যেখানে জাদুকাঠির কাজ করেছিল হিন্দু ভোট। এ বার সেই বয়াল থেকেই এক জন ‘হিন্দু মুখ’কে বিজেপি থেকে এনে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যাঁর পরিচিতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অতীতও। তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, ১ ব্লকের সংখ্যালঘুদের ভোট জোড়াফুল চিহ্নেই আসবে। কিন্তু ২ ব্লকে হিন্দু ভোটে চিড় ধরাতে পারলে হিসাব অন্য রকম হয়ে যেতে পারে। সেই নন্দীগ্রামেই বুধবার পা রাখছেন অভিষেক।