Madhya Pradesh School Teacher

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাচনভঙ্গি ‘নকল’ করে বিতর্কে মধ্যপ্রদেশের স্কুলশিক্ষক! চাকরি থেকেই নিলম্বিত করল প্রশাসন

এলপিজি সরবরাহ ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েই হাস্যরস পরিবেশন করছিলেন সাকেত। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ২১:১১
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাচনভঙ্গি ‘নকল’ করেছিলেন। তা নিয়েই বিতর্ক। সেই বিতর্কের মাঝেই এ বার চাকরি থেকে নিলম্বিত হলেন মধ্যপ্রদেশের এক সরকারি স্কুলের শিক্ষক।

Advertisement

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী শহর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে থাকেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক সাকেত পুরোহিত। সম্প্রতি গ্রামের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বাচনভঙ্গি অনুকরণ (মিমিক) করেন তিনি। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দিও করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে। পরে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাচক্রে, ওই ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরই চাকরি থেকে নিলম্বিত হন সাকেত।

সম্প্রতি দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ঘিরে উদ্বেগ দানা বেঁধেছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানাচ্ছে, এলপিজি সরবরাহ ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েই হাস্যরস পরিবেশন করছিলেন সাকেত। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। নিলম্বিত হওয়ার পরে তাঁর আক্ষেপ, “আমি তো শুধু মানুষকে হাসানোর চেষ্টা করছিলাম।” সাকেত বলেন, “মানুষ বিনোদনের জন্যই সেখানে গিয়েছিল। কেউ গান গেয়েছেন, কেউ অভিনয় করেছেন। আমি একটি মিমিক পরিবেশন করেছিলাম।”

কিন্তু বিষয়টি যে এতদূর গ়ড়াবে, তা ওই সময়ে ভাবতে পারেননি সাকেত। জানা যাচ্ছে, ওই রাতেই মধ্যপ্রদেশের পিচ্ছোরের বিজেপি বিধায়ক প্রীতল লোধি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাকেতের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, এক জন সরকারি কর্মী কৌতুকের জন্য প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ‘নকল’ করে সরকারি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। বিধায়কের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা দফতর অনুসন্ধানও শুরু করে। জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরই সাকেতকে নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা আধিকারিক বিবেক শ্রীবাস্তব জানান, ‘মধ্যপ্রদেশ সিভিল সার্ভিসেস (কন্ডাক্ট) রুল্‌স’-এর আওতায় নিলম্বিত করা হয়েছে তাঁকে।

শুক্রবার রাতে সাকেত জানতে পারেন তাঁকে নিলম্বিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই নির্দেশ জারি করার আগে তাঁকে কোনও শো কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে। নিলম্বিত ওই স্কুলশিক্ষক বলেন, “আমার বক্তব্য না শুনেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এটি কোনও ভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে নিলম্বিত করা হল। অথচ কোনও শো কজ় নোটিস পর্যন্ত পাঠানো হল না।”

Advertisement
আরও পড়ুন