এলপিজি নিয়ে নতুন বিধি। — ফাইল চিত্র।
যে গ্রাহকদের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহ হয়, তাঁরা আর এলপিজি সংযোগ বা সিলিন্ডার পাবেন না। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (সরবরাহ এবং বিতরণ বিধি) নির্দেশিকা সংশোধন করেছে। তার পরেই নতুন এই নিয়মের কথা জানিয়েছে।
নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, যে গ্রাহকদের পিএনজির পাশাপাশি এলপিজি সংযোগ রয়েছে, তাঁরা কোনও সরকারি তেল সংস্থা থেকে আর গ্যাসের সিলিন্ডার পাবেন না। তাঁদের এলপিজি সংযোগ দ্রুত ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যে গ্রাহকদের পিএনজি সংযোগ রয়েছে, তাঁরা নতুন করে এলপিজি সংযোগ নিতে পারবেন না। কোনও সরকারি সংস্থা বা তাদের ডিস্ট্রিবিউটররের থেকে এলপিজি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরাতে পারবেন না।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশিকা দিয়ে জানায়, খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল সংরক্ষণ করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, যে কোনও পাত্রে পেট্রল-ডিজ়েল বিক্রি করা যাবে না। দেশবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বার্তা দিয়ে জানায়, দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে পেট্রল বা ডিজ়েলের মতো নিরাপদ নয় এমন জিনিস অনুপযুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত নয়।
কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীতে অনিয়মিত জাহাজ চলাচলের ফলে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। ভারত প্রতিদিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। একটি রিপোর্টে দাবি, হরমুজ় প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার)-এরও বেশি গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ। এই পরিস্থিতিতে নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।