সঞ্জু স্যামসন (বাঁ দিকে) এবং গৌতম গম্ভীর। — ফাইল চিত্র।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ তিন ম্যাচে অর্ধশতরান করে ভারতকে ট্রফি জিতিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর মনে করেন, ফর্মে থাকলে প্রথম ছ’ওভারেই দলকে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন সঞ্জু। কেন বিশ্বকাপে সঞ্জুকে খেলানো হয়েছিল, কী ভাবে তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তা জানিয়েছেন ভারতের কোচ।
‘জিয়োস্টারে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেছেন, “আমরা জানতাম সঞ্জু কী করতে পারে। ওর প্রতিভা এবং ধ্বংসাত্মক মানসিকতা নিয়ে কোনও দিন কারও মনে সন্দেহ ছিল না। যদি ছন্দ পেয়ে যায় তা হলে প্রথম ছ’ওভারেই ও দলকে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে।”
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে খারাপ সিরিজ় যাওয়ার পর বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন সঞ্জু। অভিষেক শর্মা অসুস্থ থাকায় নামিবিয়া ম্যাচে খেললেও রান পাননি। এর পর সঞ্জুকে জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে খেলানো হয়। সেই প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেছেন, “জিম করার সময় কথাটা ওকে বলেছিলাম। সেই সময় আমরা দু’জনেই গা ঘামাচ্ছিলাম। তখনই সঞ্জুকে বলি, ‘তুমি জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে খেলছো’। সঞ্জু বলল, ‘তা হলে তাই হোক’। ঠিক এ রকমই সাধারণ কথাবার্তা হয় আমাদের মধ্যে। আমরা যে কোচ এবং ক্রিকেটার সেটা মাথাতেই রাখি না। এটা এমন সম্পর্ক যেখানে অনুশীলনে সরাসরি গিয়ে কথা হয়।”
ভারতের টপ অর্ডারে বাঁ হাতিদের ভিড় রয়েছে বলে সঞ্জুকে খেলানো হচ্ছে, এমন একটা জল্পনা হয়েছিল। তা উড়িয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। বলেছেন, “অনেকেই বলেছে বাঁ হাতিদের ভিড় কমানোর জন্য সঞ্জুকে খেলানো হয়েছে। এটা একেবারেই ঠিক নয়। আমাদের মনে হয়েছিল টপ অর্ডারে একজন বিধ্বংসী ব্যাটার খেলানো দরকার। গত দেড় বছরে আমাদের দর্শন হচ্ছে, শুরুতে যতটা সম্ভব আগ্রাসী হতে হবে। সঞ্জুকে দলে নেওয়ার কারণ উল্টো দিকে অফস্পিনার বল করছে বলে নয়। প্রথম ছ’ওভারে দলকে আরও আগ্রাসী করতে চেয়েই ওকে নেওয়া হয়েছিল।”
অভিষেক শর্মা তিনটি ম্যাচে শূন্য করেছিলেন। সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কেকেআরে নিজের খারাপ অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন গম্ভীর। বলেছেন, “২০১৪-র আইপিএলে এর থেকেও খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমি। টানা চারটে ম্যাচে শূন্য করেছিলাম। অভিষেককে একটাই কথা বলেছিলাম, লোকে তোমার স্কোর দেখে ফর্ম নিয়ে অনেক কথা বলবে। তোমার ফর্ম ঠিকই আছে, শুধু ব্যাটে রান নেই। ফর্ম বুঝতে গেলে ক্রিজ়ে নেমে ২০-৩০ বল খেলতে হবে। ও তো অত বল খেলেইনি। তাই আমি ওকে বলতাম, পরের ম্যাচে গিয়ে আরও আগ্রাসী খেলার চেষ্টা করো। অভিষেককে নিয়েও সাজঘরে কোনও সন্দেহ ছিল না।”