উঠে এল এনসিআরবি-র পরিসংখ্যানে
Crimes

বিদেশিদের মধ্যে এ দেশে অপরাধের শীর্ষে বাংলাদেশিরা

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশি নাগরিকেরা এ দেশে মোট ২৫৪৪টি অপরাধ সংঘটিত করেছেন। তার মধ্যে ৯৯২টি ঘটনাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলার পরে রয়েছে মহারাষ্ট্র (৩৮৬)।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৮:৪১

— প্রতীকী চিত্র।

এ দেশে অপরাধ করা বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে জানাল জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গোটা দেশে বাংলাদেশের মোট ৩০৯১ জন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই এ দেশে অভিবাসন নীতি ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে তাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ওই পরিসংখ্যান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশি নাগরিকেরা এ দেশে মোট ২৫৪৪টি অপরাধ সংঘটিত করেছেন। তার মধ্যে ৯৯২টি ঘটনাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলার পরে রয়েছে মহারাষ্ট্র (৩৮৬)। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৪ সালে যে বাংলাদেশিরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯৭৬ জন ধরা পড়েন অভিবাসন আইন ও পাসপোর্ট আইন ভাঙার অভিযোগে। মাদক পাচারের দায়ে রাজ্যে ধরা পড়েন ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক। পরিসংখ্যান বলছে, গোটা দেশে অভিবাসন আইন ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৬৭৬ জন বাংলাদেশি। এ ছাড়া ডাকাতির ঘটনায় এক জন ও জালিয়াতির অভিযোগে গোটা দেশে ২০ জন বাংলাদেশের নাগরিককে ওই বছরেই গ্রেফতার করা হয়। বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হন এক বাংলাদেশি।

সংখ্যার নিরিখে এ দেশে বাংলাদেশিদের পরেই অপরাধের তালিকায় রয়েছেন নাইজিরিয়ার বাসিন্দারা। গোটা দেশে ৫০৯ জন নাইজিরীয় ধরা পড়েছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে নেপাল (৪৭৬) ও মায়ানমারের (২৪৫) নাগরিকেরা। মায়ানমারের ১১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ভাঙার অভিযোগ রয়েছে।

ভোটের প্রচারে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ভোটের প্রচারে বিজেপির অন্যতম মূল হাতিয়ার ছিল অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার বিন্যাস পাল্টে যাওয়ার তত্ত্ব। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নে ‘থ্রি-ডি’ নীতি নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। ডি মানে ডিটেক্ট বা চিহ্নিতকরণ, তার পরে ডিলিট বা রাজ্যের বাসিন্দাদের তালিকা থেকে নাম মোছা ও শেষে ডিপোর্ট। ওই ব্যক্তিকে তাঁর নিজের দেশ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া।’’

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, অমিত শাহ রাজ্যে প্রচারে এসে একাধিক বার জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ভাবে রেয়াত করা হবে না। বর্তমান বিজেপি সরকার সেই নীতি মেনে এগোতে বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন