আফগান কূটনীতিক নূর আহমেদ নূর। ছবি: সংগৃহীত।
দিল্লিতে আফগান দূতাবাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগ করল তালিবান সরকার। শনিবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন আফগান কূটনীতিক নূর আহমেদ নূর। তাঁকে আফগানিস্তানের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান করে পাঠানো হয়েছে। কাবুল পুনর্দখলের প্রায় পাঁচ বছর পরে দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পাঠাল তালিবান সরকার।
২০২১ সালের অগস্টে আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা পুনরায় দখল করে তালিবান গোষ্ঠী। তার আগে দিল্লিতে পুরোদস্তুর দূতাবাস চালু ছিল আফগানিস্তানের। কিন্তু ২০২১ সালের পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাবুল প্রসঙ্গে ঈষৎ দূরত্বই রেখেছিল দিল্লি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমীকরণ বদলেছে। গত বছরের অক্টোবরে ভারত থেকে ঘুরে গিয়েছেন তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তালিবান কাবুল দখলের পরে সেটিই ছিল প্রথম সে দেশের কোনও মন্ত্রীর দিল্লিতে কূটনৈতিক সফর। সূত্রের খবর, ওই সময়েই দিল্লিতে আফগান দূতাবাসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
নূরের আগে আফগান বিদেশ মন্ত্রকে ‘ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট’-এ ডিরেক্টর জেনারেল হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তালিবান সরকারের দেওয়া নতুন দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য শনিবার সকালেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। গত বছরের অক্টোবরে মুত্তাকির সঙ্গে তালিবান সরকারের যে প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছিল, সেই দলেও ছিলেন নূর। গত মাসে বাংলাদেশ সফরেও গিয়েছিলেন তিনি। এ বার সেই নূরকে দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান করল তালিবান।
বস্তুত, গত অক্টোবরে মুত্তাকির দিল্লি সফরের পর থেকে ভারত-আফগানিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে। মুত্তাকি ফিরে যাওয়ার পরে আরও দুই তালিবান মন্ত্রী ভারত থেকে ঘুরে গিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজি আসেন ভারতে। পর গত ২০ ডিসেম্বর তালিবান স্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালিও ভারত থেকে ঘুরে যান। তিন মাসের মধ্যে তিন তালিবান মন্ত্রী ভারত সফরে এসেছিলেন।
আশরাফ গনির আমলে ভারত এবং আফগানিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ মজুবত হয়েছিল। আফগানিস্তানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগও করেছিল ভারত। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা আফগানিস্তান থেকে সরে গেলে পতন হয় গনি সরকারের। কাবুলের দখল নেয় তালিবানেরা। এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানের তালিবান সরকার রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি পায়নি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই তাদের স্বীকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
গত বছরের শুরুর দিকে দুবাইয়ে মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক হয় ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রীর। ওই বৈঠকের পর থেকেই তালিবান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে কিছুটা আভাস মেলে। দুবাই-বৈঠকে তালিবান সরকার ভারতকে এক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে ব্যাখ্যা করে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে তালিবানদের সামরিক সংঘর্ষে দিল্লি এবং কাবুলকে আরও কাছাকাছি এনে দেয়।