বিরাট কোহলি। ছবি: পিটিআই।
প্রথম এক দিনের ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে মাইকেল ব্রেসওয়েলেরা করেন ৮ উইকেটে ৩০০। জবাবে বিরাট কোহলির ৯৩ রানের সুবাদে ৪৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৬ রান শুভমন গিলদের। তবে যতটা সহজে ভারত জিতবে বলে মনে করা হচ্ছিল, ততটা সহজ হল না জয়। কোহলি আউট হওয়ার পর ভারতের ইনিংসের ছন্দ নষ্ট হয়। নিউ জ়িল্যান্ডের ফিল্ডারেরা একাধিক ক্যাচ ফেলে কিছুটা স্বস্তি দিলেন ভারতীয় শিবিরকে।
ভাল শুরু করেও বড় রান পেলেন না রোহিত শর্মা। করলেন ২৬ রান। ধীরে শুরু করে ৫৬ রান এল শুভমনের ব্যাট থেকে। অধিনায়ক রান পেলেও ফর্মে ফিরেছেন বলা যাবে না। তাঁর ৭১ বলের ইনিংসে ছিল সতর্কতার ছাপ। তার মধ্যেও পয়েন্টে ক্যাচ তুলে এক বার বেঁচে গিয়েছেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে চেষ্টা করেও বল তালুবন্দি করতে পারেননি গ্লেন ফিলিপস। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিল্ডারের ক্যাচ মিস দেখে হেসে ফেলেন শুভমন-রোহিত।
তাঁরা না পারলেও ভারতকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেদিলেন কোহলি। সহজ-সাবলীল ব্যাটিং করলেন। একাধিক কীর্তিও গড়লেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্ণ করলেন ২৮ হাজার রান। কুমার সাঙ্গাকারার ২৮০১৬ রান টপকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় উঠে এলেন দ্বিতীয় স্থানেও। কোহলির সামনে শুধু সচিন তেন্ডুলকর (৩৪৩৫৭ রান)।
রোহিত যেটুকু সময় ক্রিজ়ে ছিলেন, চেনা মেজাজেই ছিলেন। রোহিতের বেঁধে দেওয়া সুর ধরে রাখলেন কোহলিও। আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে শুরু করলেন বডোদরার নতুন স্টেডিয়ামে। তাতেই কমল ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য। নিউ জ়িল্যান্ডের দেওয়া ৩০১ রানের লক্ষ্যও বিরাট মনে হল না কোহলির দাপটে। চোট সারিয়ে ফেরা শ্রেয়স আয়ার ফর্মে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিজয় হজারে ট্রফির ম্যাচে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ব্যাট হাতে দলকে ভরসা দিলেন সহ-অধিনায়ক। কোহলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাট করলেন শ্রেয়স। নিউ জ়িল্যান্ডের কোনও বোলারই তাঁদের সমস্যায় ফেলতে পারেননি।
কোহলি ৯১ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেললেন। হাতছাড়া করলেন নিশ্চিত শতরান। ৮টি চার এবং ১টি ছক্কা এল তাঁর ব্যাট থেকে। রবিবারের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর রান হল ২৮০৬৮। কাইল জেমিসনের বলে কোহলি আউট হওয়ার পর ম্যাচ কিছুটা কঠিন করে ফেললেন ভারতীয়েরা। রান পেলেন না রবীন্দ্র জাডেজা (৪)। অর্ধশতরান হাতছাড়া করলেন শ্রেয়সও। ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে ৪৯ রান করলেন তিনি। ২ উইকেটে ২৩৪ থেকে ১২ বলের ব্যবধানে ভারতের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪২। এর পর ভারতের মূল ভরসা ছিলেন লোকেশ রাহুল। চাপের মুখে ব্যাট হাতে লড়াই করলেন হর্ষিত রানাও। রাহুলের সঙ্গে জুটিতে কেকেআরের জোরে বোলারই প্রধান ভূমিকা নিলেন। ড্যারেল মিচেল আগেই হর্ষিতের দেওয়া সহজ ক্যাচ ফেলে না দিলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতেও পারত।সে সময় তাঁর রান ছিল ১২। শেষ পর্যন্ত হর্ষিত ২৩ বলে ২৯ রান করলেন ২টি চার, ১টি ছয়ের সাহায্যে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্যাট করতে নামতে হয় বল করার সময় চোট পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরকে। রাহুলের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত জয় এল। তিনি ২টি চার ১টি ছয়ের সাহায্যে ২১ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন। ওয়াশিংটন ৭ বলে ৭ রানের অপরাজিত ইনিংসও পরিস্থিতির নিরিখে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
নিউ জ়িল্যান্ডের সফলতম বোলার জেমিসন ৪১ রানে ৪ উইকেট নিলেন। ৫৫ রানে ১ উইকেট নিলেন আদিত্য অশোক। ৭৩ রানে ১ উইকেট ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের। কিউয়ি অধিনায়ক সাত জন বোলারকে ব্যবহার করেও দলকে জেতাতে পারলেন না।
টস হারার পর প্রথমে অচেনা পিচে
ভাল ব্যাট করেন নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারেরাও। কিছুটা ধরে শুরু করেন দুই ওপেনার
ডেভন কনওয়ে এবং হেনরি নিকোলস। প্রথম উইকেটের জুটিতে তাঁরা তোলেন ১১৭ রান। নিকোলসকে
(৬২) আউট করে তাঁদের জুটি ভাঙেন হর্ষিত। নিকোলসের ৬৯ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি
চার। কনওয়ে ৬টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৬৭ বলে ৫৬। তাঁকেও আউট করেন
হর্ষিত। তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ং (১২) এবং পাঁচ নম্বরে নামা গ্লেন ফিলিপস (১২) রান
না পেলেও কিউয়িদের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান চার নম্বরে নামা ড্যারেল মিচেল। তিনি করেন
৭১ বলে ৮৪ রান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা। ভারতীয় বোলারদের
সামলাতে পারেননি মিচেল হে (১২), ব্রেসওয়েল(১৬), জ়্যাক ফোকসেরাও (১)। তবু নিউ
জ়িল্যান্ড ৩০০ পর্যন্ত পৌঁছোল শেষ দিকে ক্লার্কের দাপটে। তিনি ১৭ বলে
২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সফলতম মহম্মদ সিরাজ। ৪০ রানে ২ উইকেট তাঁর। ৬০ রানে ২ উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের। ৬৫ রানে ২ উইকেট হর্ষিতের। ৫২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ যাদব। চোট পাওয়ায় ৫ ওভারের বেশি বল করতে পারেননি ওয়াশিংটন। জয়ের মাঝে তরুণ অলরাউন্ডারের চোট নিয়ে উদ্বেগ থাকল ভারতীয় শিবিরে।