—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
মে, জুন, জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় কাটছাট করল ভারতের অন্যতম বিমানসংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় বিধিনিষেধ এবং জ্বালানির খরচের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
আমেরিকা, ইরান এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই সংঘাতের কারণে অনেক দেশের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। কোথাও কোথাও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক বিমানসংস্থার বিমানগুলিকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছোতে গেলে ঘুরপথ নিতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে জ্বালানি খরচও। সেই তালিকায় আছে এয়ার ইন্ডিয়াও। বিভিন্ন সূত্রে খবর, গত অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়ার ২২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। শুধু আকাশসীমা বন্ধের কারণে নয়, দফায় দফায় ভারতে বিমানের জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণেও এয়ার ইন্ডিয়া তাদের আন্তর্জাতিক পরিষেবা কমাচ্ছে।
‘দ্য ইকনমিক টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়া আগামী জুন পর্যন্ত ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরে তাদের পরিষেবা কমিয়ে দেবে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিদায়ী সিইও এবং ক্যাম্পবেল উইলসন কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চালিয়ে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছে না সংস্থা। এই সব পরিষেবা চালু রাখলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ক্যাম্পবেল কর্মীদের বলেছেন, ‘‘জুন মাস পর্যন্ত আমরা আমাদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা কমিয়ে দিচ্ছি। বিমান জ্বালানির দাম অনেকটাই বেড়েছে। সেই সঙ্গে অনেক আকাশপথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছোতে হচ্ছে। সেই কারণে ক্ষতি হচ্ছে সংস্থার।’’ তবে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।
আমেরিকা-ইরানের সংঘর্ষের কারণে অনেক দিন ধরেই জ্বালানির দাম চড়া। বিশ্বের বাজারেও চড়া মূল্যে এই জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার থেকে অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (এটিএফ) বা জেট ফুয়েলের দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। এর আগে গত ১ এপ্রিল বিমানের জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছিল। সেই বর্ধিত মূল্য অভ্যন্তরীণ বিমানগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছিল। তবে এ বার শুধু আন্তর্জাতিক বিমানের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।