মে মাস জুড়ে আরও বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ। ছবি: সংগৃহীত।
এপ্রিলে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে তাপপ্রবাহ আর গরমের দাপটে নাজেহাল। মাসের শুরু থেকেই হাঁসফাঁস অবস্থা। কিন্তু মাঝেমধ্যেই এক একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হয়েছে, তার জেরে ঝড়বৃষ্টিও হয়েছে। ফলে মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু মে মাসেই আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল মৌসম ভবন। কিন্তু যে ভাবে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হচ্ছে, তাতে মে মাসেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে কিংবা তার থেকেও কম হতে পারে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ, মধ্য ভারত, উত্তর-পূর্ব ভারতের দক্ষিণ অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিকের থেকে কম থাকতে পারে। অন্য দিকে, দেশের দক্ষিণ প্রান্ত, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশে আবার দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে। মে মাসের বেশির ভাগইটাই ঝড়বৃষ্টিতে কাটবে। ঘন ঘন পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।
মৌসম ভবন আরও জানিয়েছে, মার্চ থেকেই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বেড়েছে দেশে। আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকছে। যা ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। মে মাসে এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন মৌসম ভবনের অধিকর্তা এম মহাপাত্র। তিনি আরও জানিয়েছেন, মে মাসে গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে। স্বাভাবিকের থেকে তা অনেক বেশি হতে পারে। কোথাও কোথাও আবার বৃষ্টি পরিমাণ ১১০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। দেশের বেশির ভাগ অংশে স্বাভাবিক, কোথাও আবার স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে একেবারেই যে তাপপ্রবাহ চলবে না এই সময়ের মধ্যে, তেমনটা নয় বলেও জানিয়েছে মৌসম ভবন। দেশের কোনও কোনও প্রান্তে আবার স্বাভাবিকের থেকেও বেশি তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হতে পারে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, উত্তর-পূর্ব বিহার, দেশের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলি, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে স্বাভাবিকের থেকে বেশি তাপপ্রবাহ হবে। প্রসঙ্গত, এপ্রিলে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১১ শতাংশ। যা স্বাভাবিকের থেকে কম। যদিও উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং মধ্য ভারতে আবার স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গত মাসে। উত্তর ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৭.৪ শতাংশ। মধ্য ভারতে ১৭.২ শতাংশ। অন্য দিকে, পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে ১০ শতাংশ ঘাটতি ছিল বৃষ্টির।