West Bengal Election 2026

মহিলা-শিশুদের পিটিয়েছিলেন, সাসপেন্ডও হয়েছেন কালীঘাটের সেই ওসি, দেখে নেব বাইরের অফিসারদেরও! হুঁশিয়ারি মমতার

দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। গৌতম দাসকে বসানো হয়েছিল ওই পদে। তবে তার আগেও গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৯:০১
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

শিশু এবং মহিলাদের মেরেছিলেন! কালীঘাটের নিলম্বিত (সাসপেন্ড হওয়া) ওসি গৌতম দাসকে নিয়ে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই বলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে তিনি পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন। জানান, ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশে বা ভিন্‌রাজ্যে পালিয়ে পার পাবেন না পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা। সকলকে আদালতে টেনে আনা হবে।

Advertisement

শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে প্রায় দে়ড় ঘণ্টা ধরে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মমতা এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই কালীঘাটের নিলম্বিত ওসি-কে নিয়ে মন্তব্য করেন মমতা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা জানান, মহিলা এবং শিশুদের মেরেছিলেন কালীঘাটের ওসি। শনিবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তার পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা ভাবছেন, ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশ বা যে রাজ্য থেকে এসেছিলেন, সেখানে পালিয়ে যাবেন! তাঁদের প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য। দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেও গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয়েছিল গৌতমকে। শনিবার তাঁকে নিলম্বিত করে লালবাজার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি স্টেটাস দিয়ে বিতর্কে জড়ান গৌতম। শুক্রবার রাতে ওই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তৃণমূল। লালবাজার সূত্রে খবর, ওই বন্দুককাণ্ডের জেরেই গৌতমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় যে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। গৌতম নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেন বলেও দাবি করে তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে।

তার পরেই গৌতমকে নিয়ে বৈঠকে মমতা মন্তব্য করেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, তাঁর নিশানায় রয়েছেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা গিয়েছিল ফলতায়। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ওই এলাকা উত্তপ্তও হয়। সেখানে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ওঠে। কমিশন অজয়পালের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। প্রসঙ্গত, ফলতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।

তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবারের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং অভিষেক বার্তা দিয়ে জানান, ২০০-র উপরে আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল! তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে মমতা-অভিষেক জানান, শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁরা এ-ও জানান যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন